নিহত ব্যক্তির ছেলে রাকিব হাওলাদার (২০) বলেন, তাঁর বাবা সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। সেই রেশ ধরে গতকাল রাতে নির্বাচনের প্রতিপক্ষরা বেশাইনখান বাজারের সামনে তাঁর (রাকিব) ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে তাঁর বাবা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁকেও মারধর করে। একপর্যায়ে তাঁর বাবা গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজনের সাহায্যে তাঁর বাবাকে উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এস কে বড়াল বলেন, শাহ আলমকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে শাহ আলমের চাচাতো ভাই মো. মহসিন (৩৫) নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরাজিত হন। নির্বাচনে শাহ আলমের ছোট ভাই স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য নিরু হাওলাদার (৪৪) মহসিনকে সমর্থন দেন। এ ছাড়া জমি ‍নিয়ে শাহ আলমের সঙ্গে নিরু হাওলাদারের বিরোধ আছে। এ নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা আছে।

শাহ আলমের অপর ভাই মো. নুরুজ্জামান বলেন, ভাইয়ের ছেলেকে যখন প্রতিপক্ষরা মারধর করছিল, তখন তাঁর ভাই থামাতে গিয়ে হামলা শিকার হয়েছেন। হামলাকারীদের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্তের পর আমার এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নেব।’

এ বিষয়ে জানতে নিহত ব্যক্তির চাচাতো ভাই মো. মহসিন ও ইউপি সদস্য নিরু হাওলাদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে মুঠোফোন নম্বর বন্ধ থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান বলেন, শাহ আলমের লাশ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। লাশের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ বিষয়ে নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন