বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

সাপের উপদ্রব এত বেড়েছে যে রোববার তা সরেজমিনে দেখার জন্য ভেনম রিসার্চ সেন্টারের একটি দল সারোয়াতলী গ্রামে যায়। তাঁরা গ্রামবাসীকে সচেতন করার পাশাপাশি সাপের উপদ্রব বাড়ার সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধান করেছে।

ভেনম সেন্টারের গবেষণা সহকারী মিজানুর রহমান প্রথম আলোক বলেন, সাধারণত শীতকালের শুরুতে বিষধর সাপ শীতনিদ্রায় চলে যায়। এ সময়টাতে তারা একটু গরম কোনো জায়গা খোঁজে, এজন্য জঙ্গলের মধ্যেই উষ্ণ জায়গা বেছে নেয় এরা। তবে ওখানে ঝোপঝাড় কেটে ফেলা সাপের বাস্তুহারা হওয়ার একটা বড় কারণ।

পরিদর্শনকালে ভেনম রিসার্চ সেন্টারের দলটি এলাকাবাসীকে সাপ না মারার জন্য সচেতন করে। এর মধ্যে ওই গ্রামে কয়েকটি সাপ মারা পড়েছে বলে জানা গেছে। ভেনম রিসার্চ সেন্টার এর আগে বোয়ালখালীর পশ্চিম ও পূর্ব গোমদণ্ডী এলাকা থেকে বিষধর সাপ ধরে। এবার উপদ্রব করা সাপগুলোর মধ্যে গালটোবা, গোখরা ইত্যাদি রয়েছে বলে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

গ্রামবাসী জানান, সাপের পাশাপাশি মেছো বাঘ, বনবিড়াল,বাগডাশ ও গন্ধগোকুলের উপদ্রবও বেড়েছে। পরিতোষ দাশ নামের এক গ্রামবাসী বলেন, খালের পাড়ে ঝোপঝাড় কেটে ফেলায় বনবিড়ালসহ নানা প্রাণী সেখান থেকে এসে হাঁস–মুরগি খেয়ে ফেলছে।

সাপে কাটার পর সারোয়াতলী গ্রামের মীরা আইচ (৫৫) ও বাসুদেব পাল (৫১) চমেক হাসপাতালে ২০ দিনের বেশি চিকিৎসা নিয়েছেন। এখন তাঁরা বাড়ি ফিরলেও সাপের ভয়ে গ্রামের অনেকে ঘরের জানালায় নেট লাগিয়েছেন।

গত সপ্তাহে দক্ষিণ সারোয়াতলী গ্রামের বিশ্বাস পাড়ায় প্রণব বিশ্বাসের ছেলে ঘরের ভেতর কুণ্ডলী পাকানো একটি সাপ দেখতে পান। এ সময় তিনি চিৎকার করলে সাপটি ফণা তুলে খাটের কোণে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে তিনি খাট উল্টে ফেললে সাপ দ্রুত জানালা দিয়ে বেরিয়ে যায়।

প্রণব বিশ্বাস বলেন, ‘সাপটি বিষধর গোখরা ছিল বলে মনে হচ্ছে। সাপ দেখার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে দিন পার করছেন। শোয়ার ঘরে কেউ যেতে ভয় পাচ্ছেন।’

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী (ভেনম সেন্টারের গবেষক) প্রথম আলোকে বলেন, হঠাৎ করে সাপের উপদ্রব নানা কারণে হতে পারে। তবে সারোয়াতলীতে যেটা হয়েছে তা স্বাভাবিকের চেয়ে খুব বেশি মনে হচ্ছে না। কিন্তু একই এলাকার বেশ কিছু লোককে সাপে কেটেছে।

সেখানে ঝোপঝাড় কেটে খাল খননসহ বেশ কিছু নির্মাণকাজ চলছে, এটা একটি কারণ হতে পারে। এটা ‘ইকোলজিক্যাল ইম্প্যাক্ট’ বলে মনে হচ্ছে।

default-image

সাপে কাটা রোগীদের প্রতিষেধক তৈরির জন্য ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) একটি ভেনম রিসার্চ সেন্টার চালু করা হয়েছে। সেখানে সাপ লালন–পালন করে ভেনম (বিষ) সংগ্রহ করা হয়। পরে তা পরীক্ষাগারে নিয়ে অ্যান্টি–ভেনম তৈরির জন্য গবেষণা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর ২০১৯ সালে সেন্টারে ৫২টি সাপ ছিল, বর্তমানে এ সংখ্যা বেড়ে ২৭০ হয়েছে। এর মধ্যে ১১০টি অপ্রাপ্তবয়স্ক, বাকিগুলো বিভিন্ন প্রজাতির প্রাপ্তবয়স্ক। এর মধ্যে শঙ্খিনী, পদ্মগোখরা ও গোখরা রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় পাঁচ বছর মেয়াদি অ্যান্টি–ভেনম তৈরির প্রকল্পটি চলছে। প্রকল্পের মুখ্য গবেষক চমেকের অধ্যাপক অনিরুদ্ধ ঘোষ। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ভেনম সংগ্রহ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক সায়েন্সের পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে নিয়মিত।

অনিরুদ্ধ ঘোষ বলেন, প্রায় এক বছর ধরে ভেনম সংগ্রহ চলছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন সাপ আসায় এই প্রক্রিয়াটা বেশ দীর্ঘ হচ্ছে। এজন্য অনেক ধৈর্য ও সময় প্রয়োজন। তারপরও গবেষণা এগিয়ে চলছে। নতুন নতুন এলাকা থেকে তাঁরা সাপ সংগ্রহ করেন। যাতে বিষধর সাপের প্রতিটি প্রজাতির অ্যান্টি–ভেনম তৈরি করা যায়।

চমেকে স্থাপিত ভেনম রিসার্চ সেন্টারটি বাংলাদেশের বিষধর সাপের বিষের বিরুদ্ধে অ্যান্টি–ভেনম তৈরির উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এই সেন্টারের সঙ্গে জড়িত।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন