লিমন রহমান যশোর সদর উপজেলার মহাদেবপুর গ্রামে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প ‘মুজিব পল্লী’র বাসিন্দা। ভূমিহীন হওয়ায় যশোর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি লিমনের পরিবারের বসবাসের জন্য দুই শতক জমিসহ একটি ঘর দেওয়া হয়েছে। সেই ঘরেই মা–বাবাকে নিয়ে লিমনের বসবাস। তাঁর বাবা সালাম রহমান কোনোরকমে নিজের নাম লিখতে পারেন। মা ফাতেমা বেগম লেখাপড়া জানেন না। তারপরও লিমনের মা–বাবার স্বপ্ন, ছেলেকে চিকিৎসক বানানোর। মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় লিমনের মেধাক্রম ১৩৫৩।

default-image

ছেলেকে চিকিৎসক বানানোর স্বপ্নের বিষয়ে সালাম রহমান বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই লিমনের স্বপ্ন, সে ডাক্তার হবে। অভাবের সংসারে থেকেও খুব কষ্ট করে সে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। এবার রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তির সুযোগও হয়েছে। ৮ মে ভর্তি হতে যাবে। কিন্তু মেডিকেলে ভর্তির ২০ হাজার টাকা এখনো জোগাড় করে তার হাতে দিতে পারিনি। ধারকর্জ করে এ পর্যন্ত সাত হাজার টাকা জোগাড় করেছি।’

অভাবের সঙ্গে লড়াই করে ও দারিদ্র্যের বাধা পেরিয়ে এগিয়ে চলা লিমন রহমানের ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনোর প্রতি খুব আগ্রহ। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে তিনি জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

অভাবের সঙ্গে লড়াই করে ও দারিদ্র্যের বাধা পেরিয়ে এগিয়ে চলা লিমন রহমানের ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনোর প্রতি খুব আগ্রহ। করেছেন চমৎকার ফলাফল। এ বিষয়ে লিমন বলেন, ‘পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছি। সেই বৃত্তির টাকায় পড়েছি। মাধ্যমিকের পড়ার সময়ে টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে নিয়েছি।’

লিমন রহমান আরও বলেন, ‘যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজে পড়ার সময়ে কয়েকজন শিক্ষকের বিশেষ সহায়তা পেয়েছি। কলেজের বেতন, পরীক্ষার ফিসহ অন্যান্য খরচ টিউশনি করে ও বাবা দেওয়া টাকাতে চালিয়েছি। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে জিপিএ-৫ পেয়েছি। রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেলেও দুশ্চিন্তা কাটছে না। কারণ, মেডিকেল কলেজে ভর্তি ও লেখাপড়ার খরচ জোগানোর মতো আর্থিক আবস্থা আমার পরিবারের নেই।’

লিমন আরও বলেন, ‘দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়ে লেখাপড়া করে ভালো ফল করা যে কতটা কঠিন, তা আমি হাড়ে হাড়ে জানি। তাই আমার ইচ্ছা, চিকিৎসক হয়ে আমি আমার মতো পরিবারের ছেলেমেয়ের পাশে দাঁড়াব। এটা শুধু বলার জন্য বলা না। আমি করে দেখাব।’

এ বিষয় লিমনের বাবা সালাম রহমানও বলেন, ‘আমার ছেলে ডাক্তারি পড়তে পারবে, জীবনে কখনো ভাবতে পারিনি। আমার বংশেরও কেউ এত দূর লেখাপড়া করতে পারেনি। তাই ছেলেকে ডাক্তার বানানোর জন্য মানুষের সহায়তা এখন দরকার হয়ে পড়েছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন