বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দৌলতদিয়া ঘাটে দুটি টার্মিনাল রয়েছে, যার ধারণক্ষমতা প্রায় ৫০০ যানবাহন। বড় টার্মিনালে বেশ কয়েকটি লোকাল বাস দাঁড়িয়ে রয়েছে। বিকল্প সড়কের পূর্ব পাশে আরেকটি টার্মিনাল রয়েছে। সেখানে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি কৃষকেরা সবজি নিয়ে বিক্রি করছেন। এর পাশে বসেছে মাছের বাজার। পুরো টার্মিনালে বাজার বসেছে।

ফেরিঘাট থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পেছনে দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুলের কাছে তিন লাইনের মাঝে আটকে আছে খুলনা থেকে আসা হানিফ পরিবহনের একটি কোচ। বাসটি সোমবার রাত ১২টায় এসে যানজটে আটকা পড়ে।

বাসের যাত্রী আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘যানজটে আটকে থাকার পর থেকে বাসের ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ৯ ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকে আছি। তখন থেকে বিকল্প উপায়ে পরিবহনের কথা বলছি। চালক ও সুপারভাইজার কোনো কথায় কর্ণপাত করছেন না। পেছনের গাড়ি সামনে চলে যাচ্ছে। অথচ আমরা এগোতেই পারছি না।’

আবদুল খালেক নামের এক যুবক বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ঢাকায় আমার একটি চাকরির সাক্ষাৎকার আছে। সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।’

ফরিদপুর থেকে আসা চট্টগ্রামগামী সুতলিবোঝাই ট্রাকের চালক মতিয়ার বিশ্বাস বলেন, ‘সোমবার ভোর ছয়টা থেকে আটকে আছি। রাতভর লাইনে থেকে মাত্র টার্মিনালের কাছে আসলাম। ২৬ ঘণ্টা ধরে সিরিয়ালে বসে আছি। পাশেই দুটি বড় টার্মিনাল। আমাদের টার্মিনালেও থাকতে দিলে ছিনতাইয়ের ভয় থাকে না। আমরাও বিশ্রাম নিতে পারি।’

টার্মিনাল ব্যবহার না করে মহাসড়কে গাড়ি রেখে যানজট তৈরি করার বিষয়ে সোমবার উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা হয়। এ সময় কমিটির সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দৌলতদিয়া মুক্তি মহিলা সমিতির কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, ঘাটে দুটি বড় বড় টার্মিনাল রয়েছে। টার্মিনালে কোনো পণ্যবাহী গাড়ি রাখা হয় না। অথচ রাত-দিন সড়কে পণ্যবাহী গাড়ির লম্বা লাইন। এসব গাড়ি টার্মিনালে রেখে সিরিয়ালভাবে টিকিট দিলে সড়কে কোনো যানজট হয় না। অথচ কার স্বার্থে টার্মিনাল ফাঁকা রেখে গাড়ি মহাসড়কে লাইন ধরে রাখা হচ্ছে বিষয়টি জানা দরকার।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক জামাল হোসাইন। তিনি বলেন, টার্মিনাল দুটি বিআইডব্লিউটিএ পরিচালনা করে। কী জন্য টার্মিনাল ফাঁকা রাখা হচ্ছে, তারা ভালো বলতে পারবে। গাড়ির সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণ করে ট্রাফিক পুলিশ।

default-image

কেন টার্মিনালে গাড়ি রাখে না, এ ব্যাপারেও তারা বলতে পারবে।

এ বিষয়ে জানতে ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক তারক কুমার পালের মুঠোফোন একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন ধরেননি। ঘাটে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের উপপরিদর্শক (টিএসআই) ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা সিরিয়াল অনুযায়ী গাড়ি ফেরিতে ওঠার সুযোগ
করে দিচ্ছি। এ জন্য সিরিয়াল হলেও তেমন সমস্যা হচ্ছে না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন