default-image

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা কোভিড-১৯–এর টিকা না নিলে বিভাগীয় মামলা দেওয়ার কথা বলে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিটি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাক্ষরিত। গত শনিবার চিঠিটি উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রধানদের কাছে ই–মেইল করা হয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার এখতিয়ারবহির্ভূত এমন চিঠি পেয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে। চিঠির বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার মুঠোফোনে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর হোসেন প্রতিবেদককে পরিচয়পত্রসহ তাঁর কার্যালয়ে দেখা করতে বলেন। বেলা একটার দিকে তাঁর কার্যালয়ে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

ই–মেইলে শিক্ষা কর্মকর্তার চিঠি পান বাংলাদেশ কলেজশিক্ষক সমিতির নেছারাবাদ উপজেলা শাখার সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাঠানো মেইল পাওয়ার পর তিনি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। তাঁকে বলেছেন, টিকা নেওয়ার বিষয়টি শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। এ জন্য উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে। কিন্তু বিভাগীয় মামলা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা ঠিক হয়নি।

default-image

মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘উপজেলায় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় কর্মরত সব শিক্ষক ও কর্মচারীকে জানানো যাচ্ছে যে দেশব্যাপী কোভিড-১৯–এর টিকা প্রদানের কার্যক্রম চলমান। তারই পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় কর্মরত সব শিক্ষক এবং কর্মচারীকে আবশ্যিকভাবে ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণ করতে হবে। এরপর একটি ছক মোতাবেক তথ্য ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়। যাঁরা নির্দেশনা সত্ত্বেও টিকা গ্রহণ করবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজুর নির্দেশনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিতে অনুরোধ করা হলো।’

বিজ্ঞাপন

চিঠিতে ৩৭.১০. ৭৯৮৭.০০. ১৬.৭. ৯৪-৩৫ (৯৯) স্মারক নম্বর দেওয়া আছে। আদেশে উপসচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাউশির বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক ও নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মুঠোফোন বার্তা সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোশারেফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শিক্ষকদের টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চিঠি দিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের ১২ জন শিক্ষক বলেন, শিক্ষকেরা টিকা নিচ্ছেন। যাঁরা নেননি, তাঁরাও নেবেন। তবে বিভাগীয় মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পাঠানো চিঠি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এখতিয়ারবহির্ভূত কাজ করেছেন। তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান চিঠিতে উল্লেখিত ছক পূর্ণ করে পাঠিয়েছেন।

পিরোজপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী আযিযী বলেন, শিক্ষকদের করোনা টিকা দেওয়া জরুরি। কারণ, তাঁরা বিদ্যালয় খোলার পর শিক্ষার্থীদের পাঠদান করবেন। নেছারাবাদ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চিঠিতে বিভাগীয় মামলার যে কথা বলেছেন, সে ব্যাপারে তিনি অবগত নন। তাঁদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে নির্দেশনা দিয়েছে, সেখানেও বিভাগীয় মামলার কথা বলা নেই।

এদিকে চিঠির বিষয়ে বাংলাদেশ কলেজশিক্ষক সমিতির বরিশাল বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মহসিন উল ইসলাম বলেছেন, শিক্ষা কর্মকর্তার ওই আদেশ দ্রুত প্রত্যাহার না হলে শিক্ষক সমিতি আন্দোলনে যাবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন