বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বন বিভাগ সূত্র জানায়, ওই এলাকা দিয়ে বন্য হাতি চলাচল করত। পাশাপাশি পানি পান করতে ওই ছড়ায় হাতির দল প্রতিনিয়ত আসা-যাওয়া করত। এর মধ্যে ওই এলাকার পার্শ্ববর্তী স্থানে মিয়ানমার থেকে আসা ৪০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। ওই রোহিঙ্গাদের ব্যবহারের পানির জন্য ওই এলাকায় উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পাহাড়ের ছড়ার পানি সংরক্ষণ করার জন্য বাঁধ দেয়। এ ছাড়া হাতি চলাচলের পথ বন্ধ করে ওই এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করে। ওই সময় বন বিভাগ বাধা দিলেও কাজ হয়নি।

কক্সবাজার-১৬ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জাদিমোরা শালবাগান ২৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সীমানার কাঁটাতারের বাইরে পশ্চিমে শাবকটির মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন খবর দেন। পরে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বন বিভাগে খবর দেয়। দুপুরের দিকে বন বিভাগ ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে শাবকটির মৃতদেহ উদ্ধার করে।

টেকনাফ সদরের বিট কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক আহমেদ বলেন, পাহাড়ের প্রায় এক হাজার ফুট ওপর থেকে শাবকটি পড়ে মারা যায়। পানিতে পড়ে থাকায় চামড়া খসে গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত দু-তিন দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। শাবকটির বয়স আনুমানিক সাত-আট বছর। এটি পুরুষ হাতি।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে চার-পাঁচটি হাতির দলকে পাহাড়ের চূড়ায় বিচরণ করতে দেখা যায়। খাবার খেতে এসে পাহাড়ের চূড়া থেকে পড়ে শাবকটির মৃত্যু হয়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, মৃত শাবকটির ময়নাতদন্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এটির মাথা ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন আছে। সংগ্রহ করা নমুনা চট্টগ্রামে পাঠানো হবে। এরপর প্রতিবেদন পাওয়া গেলে জানা যাবে মৃত্যুর কারণ। ধারণা করা হচ্ছে, খাবারের সন্ধানে এসে উঁচু পাহাড়ের চূড়া থেকে পড়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে দু–তিন দিন আগে শাবকটির মৃত্যু হয়।

বিট কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক আহমেদ বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে শাবকটির মৃতদেহ পুঁতে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন