বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আদিবাসী ফোরাম জেলা শাখার সভাপতি উ থোই অং বুবু। এতে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি শফিউল্লাহ আনসারী, রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজারের সাবেক সভাপতি ড. আ ছিং, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কক্সবাজার জেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি উদয় শংকর পাল, যুগ্ম সম্পাদক পরিমল কান্তি দাশ, কমিউনিস্ট পার্টি জেলার শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক অনিল দত্ত, জেলা আদিবাসী ফোরামের সহসভাপতি  ক্য জ্য অং, ব্রাহ্মণ সংসদ কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি মৃণালকান্তি চক্রবর্তী, সমাজকর্মী ও শিক্ষার্থী মা টিন টিন, নেপাল চাকমা, বুমং চিং চাকমা, লাতু চাকমা প্রমুখ।

বক্তারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার পাশাপাশি হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রেখে সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সচেতন ব্যক্তিদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।

সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস ঘটনার চার দিন পর একজন আসামিও গ্রেপ্তার না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ‘হামলাকারীরা  বিশেষ একটি গোষ্ঠীর নেতা–কর্মী হওয়ায় আসকারা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে। হামলাকারীরা যদি আসকারা পান, তাহলে সারা দেশে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। টেকনাফের দুর্গম পাহারের চাকমা সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সেখানে তাঁদের (চাকমাদের) বসবাস ঝুঁকিতে পড়বে।’

২৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় ‘অরণ্য বৌদ্ধবিহার’ এলাকায় চাকমা তরুণীকে উত্ত্যক্ত করার জেরে হামলা ও বৌদ্ধবিহারের পাশের একটি রান্নাঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চাকমা সম্প্রদায়ের ৯ জনসহ ১৩ জন আহত হন। হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি তোফায়েল হোসেনের নেতৃত্বে ওই হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ হামলায় ১৪ থেকে ১৫ জন অংশ নেন। এ নিয়ে প্রথম আলোতে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এ ঘটনায় ২৪ অক্টোবর রাতেই হামলার শিকার এক তরুণীর বাবা টেকনাফ মডেল থানায় এক চাকমা তরুণীকে উত্ত্যক্তের ঘটনার জেরে হামলা ও বৌদ্ধবিহারের পাশের একটি রান্নাঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগে ১৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তোফায়েল হোসেনকে ওই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়। কিন্তু ঘটনার চার দিন পরও মামলার কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, চাকমাপল্লিতে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু আত্মগোপনে থাকায় আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না। চাকমাপল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, সেখানে পুলিশের পাহারা রয়েছে।
২৫ অক্টোবর বিকেলে ঘটনাস্থল চাকমাপল্লি ও অরণ্য বৌদ্ধবিহার পরিদর্শন করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিদল। তারা হামলার শিকার চাকমা পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর অর্থসহায়তা তুলে দেয় এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেয়।

অরণ্য বৌদ্ধবিহারের পরিচালক উপাঞাচারা মহাথের জানান, ২০ অক্টোবর থেকে দুই দিন প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্‌যাপন করা হয়। এ সময় বৌদ্ধবিহারে আসা লোকজনের জন্য খাবারদাবারের আয়োজন ছিল। গ্রামের লোকজনকে খাওয়ানোর পর পাতিল ধোয়ামোছার জন্য চাকমা মেয়েদের ডেকে এনে কাজ করানো হচ্ছিল। এ সময় ছাত্রলীগের নেতা তোফায়েল হোসেনের নেতৃত্বে মেয়েদের ইভ টিজিং করা হয়। এর প্রতিবাদ করলে ছাত্রলীগ নেতা–কর্মীরা চাকমা নারী-পুরুষের ওপর হামলা চালান। হামলার একপর্যায়ে বিহারের পাশের কুটিরে (যেখানে খাবার রান্না হয়েছিল) আগুন দেওয়া হয়। স্থানীয় চাকমারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে না আনলে বৌদ্ধবিহারটি পুড়ে ছাই হয়ে যেত।

এর আগে চাকমা তরুণীকে উত্ত্যক্ত করা, চাকমা সম্প্রদায়ের লোকজনের ওপর হামলা এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা তোফায়েল হোসেন জানান, চাকমাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি জেরে সংঘর্ষ হয়েছিল। চাকমা তরুণীর সঙ্গে তাঁর কোনো কথা হয়নি। বিহারের রান্নাঘরে অগ্নিসংযোগের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততাও নেই।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। সেখানকার কমিটিও বাতিল করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে তোফায়েল হোসেন ছাত্রলীগের কেউ নয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন