বিজ্ঞাপন

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার জ্যোতির্ময় সরকার আজ সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, মামলায় আসামির বিরুদ্ধে নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল আটকের পর ফেসবুকে লাইভ করে ট্রাফিক বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে নানা রকম কটূক্তি করেন। সরাসরি সম্প্রচারে তাঁর অশালীন উক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এসএমপির ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মো. নুরুল আফসার ভূঁইয়া বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ৯ জুলাই বিকেলে মহানগরের শাহপরান থানা এলাকার সুরমাগেটে অস্থায়ী নিরাপত্তাচৌকি স্থাপন করে ট্রাফিক বিভাগের কার্যক্রম চলে। এ সময় একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলে হেলমেটবিহীন তিনজন আরোহীসহ মোটরসাইকেলটির চালক ফয়ছল কাদিরকে (৪০) আটক করা হয়। তাঁর কাছে গাড়ির কাগজপত্র ও বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে হেলমেটবিহীন অবস্থায় তিনজন চলাচল করার কারণ জানতে চাইলে তিনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেন। কর্তব্যরত ট্রাফিক মোটরসাইকেলটি আটক করলে ফয়ছল কাদির ফেসবুকে লাইভ শুরু করেন। এ সময় তিনি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যও প্রচার করেন।

ফয়ছল কাদির ফেসবুকের যে আইডি থেকে ঘটনাটির লাইভ দিয়েছিলেন, সেটির নাম ‘পিকে টিভি’ (পৃথিবীর কথা)। ফেসবুকভিত্তিক পেজটির তিনিই পরিচালক। আর ‘পৃথিবীর কথা’ নামের অনলাইন পোর্টালে প্রকাশক হিসেবে তাঁর নাম রয়েছে।

লাইভে দেখা গেছে, মোটরসাইকেলটি ট্রাফিক পুলিশ আটকানোর পর তিনি উল্টো ট্রাফিক পুলিশের গাড়ির কাগজপত্র ঠিক আছে কি না, তাঁদের মাথায় হেলমেট আছে কি না, প্রভৃতি প্রশ্ন তুলে নানা রকম ভর্ৎসনা করেন। নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল আটকানোয় তিনি ফেসবুক লাইভে রোগী বহনকারী গাড়ির নম্বর নেই, সেসব তুলে ধরে অপ্রাসঙ্গিকভাবে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে নানা রকম বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে জানতে চাইলে ফয়ছল কাদির বলেন, তাঁর ওই লাইভ করা ভুল হয়েছে। ঘটনার দিন সন্ধ্যা থেকে পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত এটি সম্প্রচার হওয়ার পর একপর্যায়ে তিনি ফেসবুক থেকে অপসারণ করেছেন। ভিডিওটি অল্প সময়ে বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়ায় তিনি বিব্রত। এ জন্য পরদিন ১০ জুলাই রাতে ‘পিকে টিভি’ থেকে আরেকটি ‘লাইভ’ দিয়ে ঘটনার জন্য মাফ চেয়েছেন। ঘটনার জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে ফয়ছল কাদির প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ভুল একখান করি ফেলেছি, আপনারা পারলে আমারে বাঁচাউকা (বাঁচান)!’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন