default-image

১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও পৌরসভার বয়স হয়েছে ৬২ বছর। ক শ্রেণির এই পৌরসভার মেয়রের আসনে প্রথমবারের মতো বসতে যাচ্ছেন একজন নারী। তিনি আঞ্জুমান আরা বেগম।

গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আঞ্জুমান আরা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ২৬ হাজার ৪৯৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী শরিফুল ইসলাম পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৩৩ ভোট। রোববার রাতে পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জিলহাজ উদ্দিন এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

এলাকার প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এর আগে শহরের নারী সমাজকর্মী সৈয়দা জাহানারা একবার পৌর চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু সেবার তিনি হেরে যান। গেল পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে তহমিনা আখতার মোল্লাকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। কিন্তু তিনিও জয়ী হতে পারেননি। এবার আরেক নারী আঞ্জুমান আরা বেগমকে মনোনয়ন দিয়ে চমক দেখায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড। নির্বাচনে আঞ্জুমান আরা বেগম বিপুল ভোটে জয়ী হন।

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ঠাকুরগাঁও পৌরসভাকে পরিবেশ ও নারী-শিশুবান্ধব, সবধরনের বর্জ্য-দূষণমুক্ত একটি আধুনিক পৌরসভায় উন্নীত করতে চাই।
আঞ্জুমান আরা বেগম, নবনির্বাচিত মেয়র
বিজ্ঞাপন

ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলায় ১৯৫৮ সালে ১৬ বর্গকিলোমিটার জায়গা নিয়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা গঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৭ সালে এ পৌরসভা ক শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। বর্তমানে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার আয়তন ৩০ বর্গকিলোমিটার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আঞ্জুমান আরা বেগম মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত ছিলেন। দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজও করেছেন। আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর কিছুদিন শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। তাঁর স্বামী এ টি এম সামসুজ্জোহাও পেশায় সাংবাদিক। তিনি দৈনিক যুগান্তর ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি।

নির্বাচনে জয়ের পর আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, ‘জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। পৌরবাসীর ভালোবাসায় আমি ধন্য। পৌরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ঠাকুরগাঁও পৌরসভাকে পরিবেশ ও নারী-শিশুবান্ধব, সবধরনের বর্জ্য-দূষণমুক্ত একটি আধুনিক পৌরসভায় উন্নীত করতে চাই।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন