default-image

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানা ঘেরাও করে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা। জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার এবং চরকাঁকড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা ফখরুল ইসলাম ওরফে সবুজের গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটায় তিনি এ কর্মসূচি শুরু করেন। রাত সোয়া ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কয়েক শ নেতা-কর্মী নিয়ে কাদের মির্জা থানার ফটকে অবস্থান করছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আবদুল কাদের মির্জা ফেনীর দাগনভূঁইয়া ও চট্টগ্রামে তাঁর ওপর হামলা ও হত্যার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বসুরহাট রূপালী চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করেন। যাতে তিনি ফেনীর সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী, নোয়াখালীর সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরীসহ দাগনভূঁইয়া ও সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে অভিযুক্ত করেন।

সূত্র জানায়, এই সংবাদ সম্মেলন চলাকালে উপজেলার টেকের বাজারে আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে একটি সমাবেশ করেন চরকাঁকড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা ফখরুল ইসলাম। কাদের মির্জা কোম্পানীগঞ্জকে জিম্মি করে রেখেছেন উল্লেখ করে তিনি বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। সমাবেশ শেষে সেখানে একটি বিক্ষোভ মিছিল হয়।

সমাবেশের খবরে কাদের মির্জার একদল সমর্থক টেকের বাজারে যান। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে থানা থেকে পুলিশ গিয়ে ফখরুল ইসলামকে আটক করেন। এ সময় সমর্থকেরা পুলিশের কাছ থেকে ফখরুলকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে কাদের মির্জা রাত সাড়ে আটটার দিকে কয়েক শ নেতা-কর্মী নিয়ে থানার সামনে অবস্থান নেন। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান, পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন ও কোম্পানীগঞ্জের ওসির প্রত্যাহারের দাবি জানান। পাশাপাশি সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী ও একরামুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

উনি তো রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন। আমরা এসব বিষয়ে কী বলব। উনি অবস্থান করছেন, যতক্ষণ পারেন করুক। আমরা প্রয়োজনে লেপ-কাঁথা দিয়ে দিব, যদি শীত লাগে।
মো. আলমগীর হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার
বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাদের মির্জা দলীয় কর্মীদের নিয়ে থানার সামনে অবস্থান করার কারণে থানা থেকে কেউ বের হতে পারছেন না। আবার বাইরের কেউ থানায় ঢুকতে পারছেন না। থানার পুলিশ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে থানার সামনে দিয়ে যাওয়া বসুরহাট-চাপরাশিরহাট সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে আশপাশের দোকানপাটও।

কর্মসূচির বিষয়ে জানতে কাদের মির্জার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। একপর্যায়ে তাঁর সহকারী সিরাজুল ইসলাম ফোন ধরে বলেন, ‘নেতা থানার সামনে আন্দোলন করছেন, বলেছেন এখন কথা বলতে পারবেন না।’
কী কারণে আন্দোলন করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে সিরাজুল বলেন, ‘চরকাঁকড়ার ফখরুল ইসলাম কয়েকজন সন্ত্রাসীকে নিয়ে ফেসবুক লাইভে নেতাকে গালমন্দ করেন। এ সময় এলাকার লোকজন তাঁকে ধরে পুলিশে দিলে পুলিশ ছেড়ে দেয়। এর প্রতিবাদে নেতা (মির্জা) থানার সামনে অবস্থান করছেন।’

ঘটনার বিষয়ে জানার জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হককে একাধিকার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে একই বিষয়ে জানতে চাইলে থানায় কর্তব্যরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. রুবেল বলেন, রাত সাড়ে আটটা থেকে মেয়র লোকজন নিয়ে থানার ফটকে অবস্থান করছেন।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘উনি তো রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন। আমরা এসব বিষয়ে কী বলব। উনি অবস্থান করছেন, যতক্ষণ পারেন করুক। আমরা প্রয়োজনে লেপ-কাঁথা দিয়ে দিব, যদি শীত লাগে।’ আপনি যাবেন কি না, নাকি কাউকে পাঠাবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, ‘ওখানে আমার যাওয়ার কী দরকার। আমার যা করার আমি করব।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন