বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়ন থেকে দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নে যেতে দুটি নৌপথ। একটি নাছিরমাঝি (সদর)-চেয়ারম্যান বাজার (দৌলতখান) নৌপথ, অপরটি তুলাতুলি (সদর)-করাতির খাল (দৌলতখান) নৌপথ। প্রতিদিন দুটি নৌপথে সহস্রাধিক মানুষ যাতায়াত করে। জনপ্রতি ৩০ টাকা ভাড়া। মালপত্রের ভাড়া আলাদা। দুই পাড়ের ঘাট দুটিতে নৌকায় (ট্রলার) যাত্রী ওঠা-নামার কোনো ঘাট নেই। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা—সব ঋতুতেই কাদাপানি মাড়িয়ে নৌকায় ওঠা–নামা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। জেলা প্রশাসকের স্থানীয় সরকার শাখা ও ইউনিয়ন পরিষদ বছরে প্রায় ২০ লাখ টাকায় দুটি ঘাট ইজারা দিয়েছে।

ভোলা শহর থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার পূর্বে মেঘনা নদীর তীরে নাছিরমাঝি ঘাট। গত বৃহস্পতিবার গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো খেয়াঘাট নেই। তীর সংরক্ষণ বাঁধের সিসি ব্লকের গায়ে বশির মাঝির ট্রলার নোঙর করা আছে। ভাটা চলছে। নৌকা নদীর অনেক নিচে। শেওলা ধরা ব্লকগুলোর ওপর সাবধানে পা ফেলে নৌকায় উঠছেন যাত্রীরা। একটু অসাবধানতায় পা ফসকালেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ট্রলারটি মদনপুরের (মেঘনার মধ্যে জেগে ওঠা একটি ইউনিয়ন) সীমানায় আসতেই ডুবোচরে আটকে যায়। মোতালেব মাঝি যাত্রীদের ট্রলার থেকে নামতে বললেন। হাঁটুপানির ভেতর দিয়ে যাত্রীরা হাঁটতে লাগলেন।

ট্রলারের যাত্রী শিক্ষক আক্তার হোসেন বলেন, গত বর্ষা থেকে তাঁদের এই ভোগান্তি চলছে। চরের লোকজন নিয়মিত ভিজে ভিজে চরে আসেন। একইভাবে বাড়িতে ফেরেন। এখন ব্যাগে বাড়তি পোশাক রাখতে হচ্ছে।

মোতালেব মাঝি জানান, জোয়ারের সময় ডুবোচর ডুবে থাকে। তখন একটানে ঘাটে পৌঁছানো সম্ভব। ভাটার সময় চর জেগে ওঠে, তখন যাত্রীদের ভোগান্তি হয়। ডুবোচরটি কেটে নালা করে দিলে নৌ চলাচলে সমস্যা কমত। নইলে যাত্রীদের দুর্ভোগ ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।

একই পরিস্থিতি নাছিরমাঝি-চেয়ারম্যান বাজার নৌপথের। এখানেও ডুবোচরের কারণে দুবার ট্রলার থেকে যাত্রীদের নামতে হচ্ছে।

চরপদ্মা গ্রামের বাসিন্দা লুৎফুর রহমান পাটওয়ারী (৭০) বলেন, ‘সরকার প্রতিবছর ঘাট দুটি থেকে মোটা টাকা ইজারা নিচ্ছে। কিন্তু কোনো উন্নয়ন নেই। চরবাসীর দুর্ভোগ কমছে না।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ভোলা নদীবন্দরের উপপরিচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি খনন বিভাগের মুখ্য প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন