বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেন মনোয়ারা। চলতি বছরের ২০ জুলাই রাত সাড়ে ১২টায় কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়কের ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মিরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় তাঁর পা ভেঙে যায়। ওই সময়ে বাকরুদ্ধ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। এখানে তাঁর পায়ে ব্যান্ডেজ করা হয়। হাসপাতালের ১২ নম্বর শয্যায় তাঁকে চিকিত্সা দেওয়া হয়। এরই মধ্যে মনোয়ারা বেগম বায়না ধরেন বাড়ি যাওয়ার। তাঁর স্মৃতিশক্তিও ফিরে আসে। তিনি ঠিকানাও দেন। কিন্তু কারও নম্বর বলতে পারেননি। পরে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তাঁর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন।

অবশেষে মঙ্গলবার সকালে মনোয়ারা বেগমের ছোট ভাই রুহুল আমিন ও ছোট ভগ্নিপতি এস এম সোলায়মান আহাম্মেদ দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। এরপর তাঁদের দেখে চিনতে পারেন তিনি। এ সময় আনন্দে একচিলতে হাসিও দেন। এই সময় আনন্দে আত্মহারা হন তাঁরা। পরে সন্ধ্যায় মনোয়ারা বেগমকে হস্তান্তর করা হয় স্বজনদের কাছে। এরপর তাঁকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর পায়ের ব্র্যান্ডেজ নিজে নিজে খুলে ফেলায় সেটি ভালো না হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে পুনরায় ভর্তি করানো হয় বলে চিকিত্সকেরা জানিয়েছেন।

মনোয়ারা বেগমের ভাই রুহুল আমিন বলেন, ‘তাঁকে পেয়েছি, এটাই সত্য। আর কখনো তাঁকে চোখের আড়াল হতে দেব না।’

দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিত্সক মঞ্জুর হোসেন বলেন, মনোয়ারা বেগমের উন্নত চিকিত্সা প্রয়োজন। পায়ের ভাঙা অংশ এখনো জোড়া লাগেনি। এ জন্য তাঁকে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর পেটের ব্যথা এবং শরীরে স্কিন ইনফেকশন ছিল মারাত্মক। এখন অনেকটা আরোগ্যের পথে। স্মরণশক্তির অভাব হলেও এখন তিনি কিছু কথা বলতে পারেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিদায়বেলায় উপস্থিত ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সক মঞ্জুর হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবু তাহের, দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মো. আরিফুর রহমান, দেবীদ্বার রোগীকল্যাণ সমিতির সদস্য এ বি এম আতিকুর রহমান বাশার প্রমুখ।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুই ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে মনোয়ারা বেগম সবার বড়। ১৯৬৬ সালে তিনি নবম শ্রেণিতে পড়তেন। তখন প্রেমে ব্যর্থ হয়ে অভিমান করে আর বিয়ের পিঁড়িতে বসেননি। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই থাকতেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন