জেলা ট্রাফিক পুলিশ, সদর থানা–পুলিশ, গোলড়া হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ দুপুরে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট থেকে সেলফি পরিবহনের যাত্রীবোঝাই একটি বাস ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। অপর দিকে চুয়াডাঙ্গাগামী জননী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকা থেকে পাটুরিয়া ঘাটের দিকে যাচ্ছিল। বেলা পৌনে দুইটার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জের মুলজান এলাকায় বাস দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাস দুটি সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই এক যুবকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনা উভয় বাসের কমপক্ষে ২২ যাত্রী আহত হন। নিহত যাত্রী সেলফি পরিবহনের। যাত্রীদের বেশির ভাগই একই পরিবহনের।

খবর পেয়ে জেলা ফায়ার সার্ভিস, গোলড়া হাইওয়ে পুলিশ, সদর থানার পুলিশ ও জেলা ট্রাফিক পুলিশ হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২০ জনকে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দুপুর আড়াইটার দিকে দুর্ঘটনাস্থল সরেজমিন দেখা যায়, দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি মহাসড়কের ওপর দুমড়েমুচড়ে অবস্থায় পড়েছিল। লাশটি রাখা ছিল মহাসড়কের পাশে। মহাসড়কের ওপর বাস দুটি থাকায় দুর্ঘটনাস্থলের উভয় পাশে প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বেলা আড়াইটার দিকে হাইওয়ে পুলিশের রেকার দিয়ে বাস দুটিকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) এ কে এম মেরাজ উদ্দিন বলেন, বেলা তিনটা নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা এ কে এম রাসেল বলেন, দুর্ঘটনায় আহত ২২ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে নয়জনকে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

জেলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রউফ সরকার বলেন, দ্রুত গতিসম্পন্ন দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাস দুটিকে জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। নিহত ব্যক্তির লাশ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন