default-image

কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে এবার ঢেলা মাছের পোনা উৎপাদনে সফল হয়েছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) গবেষকেরা। এই সাফল্য বিলুপ্তপ্রায় ঢেলা মাছ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

ময়মনসিংহে অবস্থিত এই ইনস্টিটিউটের স্বাদুপানি গবেষণা কেন্দ্রে দুই বছর ধরে নিবিড় গবেষণার পর এই সফলতা অর্জিত হয়েছে। গবেষক দলে ছিলেন কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এইচ এম কোহিনুর, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শাহা আলী, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সেলিনা ইয়াসমিন ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রবিউল আওয়াল।

গবেষকদের মতে, একসময় দেশের নদ-নদী ও হাওর–বিলে প্রচুর পরিমাণে ঢেলা মাছ পাওয়া যেত। পরবর্তী সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, অতি আহরণ ও জলাশয় সংকোচনের কারণে ঢেলা মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র বিনষ্ট হয়ে যায়। ফলে ঢেলা মাছ এখন প্রায় দুষ্প্রাপ্য এবং উচ্চমূল্যে বাজারে বিক্রি হয়। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হওয়ায় বিলুপ্তপ্রায় ঢেলা মাছকে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং চাষের মাধ্যমে এই মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞানীরা ব্রহ্মপুত্র নদসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ঢেলা মাছের পোনা সংগ্রহ করে পুকুরে তা নিবিড়ভাবে প্রতিপালন করেছেন। এ সময় ঢেলা মাছের খাদ্য ও খাদ্যাভ্যাস পর্যবেক্ষণ করে খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করা হয়। তা ছাড়া বছরব্যাপী জিএসআই ও হিস্টোলজি পরীক্ষণের মাধ্যমে ঢেলা মাছের সর্বোচ্চ প্রজনন মৌসুম নির্ধারণ করা হয়। তাতে দেখা যায়,ঢেলা মাছের সর্বোচ্চ প্রজনন মৌসুম হচ্ছে মে-জুন। উৎপাদিত পোনা বর্তমানে ইনস্টিটিউটের স্বাদুপানি কেন্দ্রের হ্যাচারিতে প্রতিপালন করা হচ্ছে।

ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সেলিনা ইয়াসমিন জানান, গবেষণায় ১০ জোড়া ঢেলা মাছকে হরমোন প্রয়োগ করা হয়। এর ৮-৯ ঘণ্টা পর ডিম ছাড়ে এবং ২২ ঘণ্টা পরে নিষিক্ত ডিম থেকে রেণু পোনা উৎপাদিত হয়। ডিম নিষিক্ততার পরিমাণ ছিল প্রায় ৮০ ভাগ। প্রতি ১০০ গ্রাম ঢেলা মাছে ভিটামিন এ ৯৩৭ আইইউ, ক্যালসিয়াম ১২৬০ মিলিগ্রাম এবং ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ জিংক রয়েছে, যা অন্যান্য দেশীয় ছোট মাছের তুলনায় অনেক বেশি।

বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন মাছ রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়ে আসছে বিএফআরআই। ইতিমধ্যে তারা বেশ কিছু সফলতা পেয়েছে। এর আগে ট্যাংরা, গুলশা, পাবদা, বৈরালীসহ ২৪টি দেশীয় প্রজাতির মাছের কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদনে সফল হয়েছেন এখানকার বিজ্ঞানীরা। এর ধারাবাহিকতায় কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ঢেলা মাছের পোনা উৎপাদনে সফল হলেন তাঁরা।

বিএফআরআই মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, ঢেলা মাছে প্রচুর খনিজ পদার্থ আছে। এই সাফল্যের পাশাপাশি বর্তমানে পিয়ালী, কাজলী, বাতাসি, কাকিলা, রানী, গাং ট্যাংরাসহ আরও ১০টি মাছ নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন