বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত ২৫ আগস্ট ব্যস্ততম মুরাদপুর মোড়ে পা পিছলে সড়ক লাগোয়া চশমা খালে পড়ে নিখোঁজ হন সবজি বিক্রেতা ছালেহ আহমেদ (৫০)। এখনো তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। এরপর গত সোমবার নগরের আগ্রাবাদের মাজার গেট এলাকায় নালায় পড়ে মারা যান বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী শেহেরীন মাহমুদ সাদিয়া (১৯)। এর আগে ৩০ জুন অটোরিকশাসহ পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। কোনো ঘটনারই তদন্ত হয়নি।

সবজি বিক্রেতা ছালেহ আহমেদ যে চশমা খালে পড়েছিলেন, সেখানে সিডিএর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় কাজ চলছিল। আর নগরের শেখ মুজিব সড়কের যে স্থানে শেহেরীন পড়েন, সেখানেও সিডিএর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলছে।

এই দুটি ঘটনা তদন্তে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিডিএ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। শেহেরীনের খালু প্রকৌশলী মো. হুজ্জাতুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রথম আলোকে বলেন, আগের ঘটনাগুলো তদন্ত করা হলে অন্তত কী কারণে মৃত্যু, কী গাফিলতি ছিল, তা বেরিয়ে আসত। এতে হয়তো শেহেরীনের দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।

বারবার মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও এখনো অধিকাংশ খাল ও নালা উন্মুক্ত। নগরের মেয়র গলির চশমা খালে পড়ে সিএনজিচালক ও যাত্রী মারা যাওয়ার ঘটনার তিন মাস পার হয়েছে। এখনো রাস্তার সঙ্গে যুক্ত খালে কোনো নিরাপত্তাবেষ্টনী দেওয়া হয়নি। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল হালিম বলেন, এত বড় ঘটনা ঘটে গেল। অথচ কোনো নিরাপত্তাবেষ্টনী দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

নগরের আগ্রাবাদের যে নালায় পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে, এর আধা কিলোমিটারের মধ্যে কোথাও ফুটপাত আছে, কোথাও নেই। যেখানে আছে, তাতে রাখা হয়েছে দোকানের সামগ্রী। সেখানে হাঁটার জায়গাও নেই। আবার রাস্তায় কাদা। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে পথচারীদের।

সবজি বিক্রেতা ছালেহ আহমেদ যেখানে পড়ে গিয়েছিলেন, সেখানে রশি দিয়ে বেষ্টনী দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাস্তার বিপরীত পাশে তার কিছুই নেই। গত বুধবার নগরের মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক নালা ও খালের অংশ উন্মুক্ত। বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় এসব এলাকায় রাস্তা-নালা পানিতে একাকার হয়ে যায়।

কেন হয় না তদন্ত কমিটি

সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, আগ্রাবাদের যেখানে নালায় পড়ে মারা গেছে, সেটি সিটি করপোরেশনের আওতাধীন। এর আগে চশমা খালে সিএনজিচালিত অটোরিকশা উল্টে দুজন মারা গেছেন, সেটিও সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত।

কিন্তু ছালেহ আহমেদের ঘটনাস্থল তো জলাবদ্ধতা প্রকল্পের আওতায় ছিল, তাহলে কেন কমিটি হয়নি—এ প্রশ্নের জবাবে প্রধান প্রকৌশলীর দাবি, প্রকল্পের কাজ চলাকালে দুই বছরের মধ্যে এটি প্রথম দুর্ঘটনা। এর থেকে শিক্ষা নিয়ে সিডিএর আওতাভুক্ত নালা ও খালে কাজ শেষে নিরাপত্তাবেষ্টনী দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ব্যাপারে মন্তব্য জানতে সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী এবং প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁরা ফোন ধরেননি। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে রফিকুল ইসলামের কার্যালয়ে গেলেও তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি।

তবে সিডিএর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজে জননিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষিত থাকছে উল্লেখ করে গত মঙ্গলবার সংস্থাটিকে চিঠি দেয় সিটি করপোরেশন। এই চিঠিতে বলা হয়, সিডিএ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আওতাধীন আগ্রাবাদ এলাকায় ফুটপাত ভেঙে ফেলে। কিন্তু নিরাপত্তাবেষ্টনী না থাকায় নালায় পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

আগ্রাবাদের মৃত্যুর ঘটনায় সিডিএ প্রকৌশলী নালার নিয়ন্ত্রণ তাঁদের আওতার বাইরে বললেও বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্পের আওতায় সিডিএ সড়কের ফুটপাত ও নালা সংস্কার করেছে। কিন্তু দুর্ঘটনাস্থলে নালার ওপর স্ল্যাব ছিল না। সেখানেই শেহেরীন পড়ে গিয়ে মারা যান। এ ছাড়া প্রকল্পকাজের জন্য রাস্তা কাদায় ভরা থাকায় লোকজন চলাচল করছে নালা ঘেঁষে।

প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, সিটি করপোরেশন কাজ না করায় তাঁরা নালা সংস্কার করেছেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, দায় এড়াতে তদন্ত কমিটি করে না সিটি করপোরেশন-সিডিএ। এখন পরস্পরের প্রতি ‘ব্লেম গেম’ খেলে দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু তারা তদন্ত না করলে কী হয়েছে, মন্ত্রণালয় আছে, জেলা প্রশাসন-বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় আছে। তাহলে তারা কেন এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছে না?

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন