রংপুরের বদরগঞ্জের কুতুবপুর ইউনিয়নের নাগেরহাট এলাকায় যমুনেশ্বরী নদী থেকে বালু তোলা বন্ধে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় চারটি মামলা করেছেন স্থানীয় ব্যক্তিরা। গত পাঁচ–ছয় বছরে এসব মামলা হলেও বালু তোলা বন্ধ হয়নি।

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, তাঁরা এখন বালু ব্যবসার টাকা দিয়ে মামলার খরচ বহন করেন। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের টাকা দেন। অন্যদিকে স্থানীয় ব্যক্তিদের অভিযোগ, প্রশাসনের লোকজন ক্ষতির বিষয়টি জানলেও এত দিনে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি।

বালু উত্তোলনকারী ব্যক্তিদের মধ্যে জেসিম মিয়া নামের একজন বলেন, ‘সবাই শুধু বালু বিক্রির টাকাটাই দেখেন। কিন্তু এই টাকার ভাগ দিতে হয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা, পুলিশ ও কিছু সাংবাদিককেও।’

পুলিশের নামে কেউ হয়তো বালু ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে টাকা নিলেও নিতে পারেন। কিন্তু আমি টাকা নেই না। জরুরি ভিত্তিতে খোঁজ নেওয়া হবে।
হাবিবুর রহমান, বদরগঞ্জ থানার ওসি

নাগেরহাট এলাকায় যমুনেশ্বরী নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, খননযন্ত্র দিয়ে বালু তোলেন এলাকার জেসিম মিয়া, বিপ্লব হোসেনসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। বালু তোলা হয় সোনারপাড়া গ্রামের পাশে। এর ফলে নদীর দুই পাড় ভেঙে আবাদি জমি বিলীন হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে নাগেরহাট সেতুসহ একটি বাজার।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদী থেকে বালু তুলে বিপ্লব হোসেন অনেক টাকার মালিক হয়েছেন। তাঁর দেখাদেখি এলাকার ফোকলা জামান, আলিম উদ্দিন, রুয়েল মিয়া, আবু রেজা, রাজু মিয়া, মোখলেছ হোসেনসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি এখন নাগেরহাট সেতুর পাশে খননযন্ত্র বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন।

গত মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, নাগেরহাট থেকে সোনারপাড়া পর্যন্ত আধা কিলোমিটারের মধ্যে যমুনেশ্বরী নদীতে পৃথকভাবে সাতটি খননযন্ত্র বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। এসব বালু ট্রাক্টরে করে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হয়। একটি ট্রাক্টরের চালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতি ট্রাক্টর বালু কেনা হয় ৭০০-৮০০ টাকায়। প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক্টর বালু এই এলাকা থেকে বিক্রি হয়।

* আধা কিলোমিটারের মধ্যে যমুনেশ্বরীতে সাতটি খননযন্ত্র বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। * প্রতি ট্রাক্টর বালু কেনা হয় ৭০০-৮০০ টাকায়। প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক্টর বালু বিক্রি হয়।

নাগেরহাট এলাকার আবদুস সালাম অভিযোগ করেন, প্রশাসনের লোকজন এসব দেখেও না দেখার ভান করছেন। বালু ব্যবসায়ীদের হুমকির কারণে এলাকার লোকজন ভয়ে প্রতিবাদ করেন না।

বালু উত্তোলনের বিষয়ে বিপ্লব হোসেন বলেন, নদীর বালু তুলতে দোষের কিছু নেই। এতে কারও কোনো ক্ষতিও হচ্ছে না। তবুও তাঁর বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয়েছে। প্রতি মাসে এসব মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে অনেক টাকা খরচ হয়।

কুতুবপুর ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা আখতারুজ্জমান হেলাল বলেন, বিপ্লবসহ এলাকার বালু ব্যবসায়ীদের নামে থানায় তিন–চারটি মামলা রয়েছে। তাঁরা এখন মামলাও চালান, বালুর ব্যবসাও করেন। মামলা হওয়ায় তাঁদের সাহস আরও বেড়ে গেছে। বালু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, পুলিশের নামে কেউ হয়তো বালু ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে টাকা নিলেও নিতে পারেন। কিন্তু তিনি টাকা নেন না। এমন অভিযোগ পাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে খোঁজ নেবেন।

আর বদরগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনুমা তারান্নুম বলেন, নদীতে খননযন্ত্র বসিয়ে বালু তোলার কোনো অভিযোগ তিনি পাননি।