default-image

মিয়ানমার থেকে মাছ ধরার ট্রলারে লুকিয়ে কক্সবাজারে ইয়াবার বড় একটি চালান আনা হচ্ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল আজ মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে ট্রলারটি জব্দ করে ৭টি বস্তায় ১৪ লাখ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করে, যার বাজার মূল্য আনুমানিক ৪২ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ঘাট উপকূলে অভিযান চালিয়ে ট্রলারটি জব্দ করা হয়। এ সময় বেশ কয়েকজন মাদক পাচারকারী সাগর চ্যানেলে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে গেলেও পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তাঁরা হলেন কক্সবাজার পৌরসভার উত্তর নুনিয়ার ছড়া এলাকার মো. নজরুল ইসলামের ছেলে মো. জহিরুল ইসলাম ওরফে ফারুক (৩৭) ও একই এলাকার মো. মোজ্জাফরের ছেলে নুরুল আমিন ওরফে বাবু (৫৫)।

বিকেল পাঁচটার দিকে পুলিশ গ্রেপ্তার জহিরুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুটি বস্তায় ভর্তি ১ কোটি ৭০ লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করে। ইয়াবা বিক্রি করে এই টাকা বস্তায় ভরে ঘরে মজুত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের দাবি, জব্দ ১৪ লাখ ইয়াবার এই চালান এ যাবৎকালের বৃহৎ চালান। এর আগে সমুদ্রপথে মাছ ধরার ট্রলারে পাচারের সময় ১২ লাখ ইয়াবাসহ কয়েকজন মাদক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মিয়ানমার থেকে ইয়াবাগুলো ট্রলারবোঝাই করে প্রথমে আনা হয় সেন্ট মার্টিন উপকূলে। রাতে সেখান থেকে ট্রলারটি টেকনাফ, উখিয়ার ইনানী, মহেশখালী চ্যালেন অতিক্রম করে মঙ্গলবার ভোররাতে চৌফলদণ্ডী ঘাটের ব্রিজ এলাকায় পৌঁছায়। সেখান থেকে ইয়াবাগুলো খালাস করে কক্সবাজার শহর ও চট্টগ্রামে পাচার করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ডিবি পুলিশ ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।

default-image

জেলা পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, মিয়ানমার থেকে মাছ ধরার ট্রলারে লুকিয়ে ইয়াবার বড় চালানটি চৌফলদণ্ডী ঘাটে আনা হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রলারটি জব্দ করে এবং ওই ট্রলার থেকে ৭টি বস্তায় ভর্তি ১৪ লাখ ইয়াবা বড়ি জব্দ করা হয়, যার বাজার মূল্য প্রায় ৪২ কোটি টাকা। এ সময় দুই মাদক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দ ইয়াবার এই চালান কক্সবাজারের আটক চালালেন মধ্যে বৃহৎ ইয়াবার চালান।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার জহিরুল ইসলামের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ডিবি পুলিশ বিকেল পাঁচটার দিকে তাঁর নুনিয়াছড়ার বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এ সময় ঘর থেকে টাকাভর্তি দুটি বস্তা উদ্ধার করা হয়। গণনা করে দুই বস্তায় পাওয়া যায় ১ কোটি ৭০ লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ টাকা। ইয়াবা বিক্রি করে এই টাকা মজুত করা হয়।

পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ইয়াবার এই চালান পাচারের সঙ্গে প্রভাবশালী মহল জড়িত রয়েছে। গ্রেপ্তার দুইজনকে এ ব্যাপারে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ১৪ লাখ ইয়াবা জব্দের ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। চক্রের অন্য সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন