default-image

রাজশাহীর তানোর পৌরসভার নির্বাচনে এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমরুল হক। ২০১১ সালের পৌরসভা নির্বাচনে তিনিই দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছিলেন। এবারের নির্বাচনে তাঁর সঙ্গে ভিড়েছেন বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা। নির্বাচনী জনসভায় তাঁরা ইমরুল হকের পক্ষে বক্তব্য দিচ্ছেন।

গত সোমবার ইমরুল হকের একটি নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত ছিলেন একসময়ের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা। তিনি ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের দলীয় প্রার্থী আয়েন উদ্দিনের বিরুদ্ধে কলস মার্কা প্রতীক নিয়ে লড়েছিলেন। ওই নির্বাচনে মেরাজ উদ্দিন বিদ্রোহী নাহলে দলীয় প্রার্থী আয়েন উদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতেন।

তানোরের ওই জনসভায় বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন। ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী গোলাম রাব্বানীর বিপরীতে তিনি চাকা প্রতীক নিয়ে ভোট করেছিলেন। গত ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত তানোরের মুন্ডুমালা পৌরসভা নির্বাচনে তিনি অসুস্থতার কথা বলে দলের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনের মাঠে নামেননি। ওই নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী সাইদুর রহমান জয়ী হন। সেই সাইদুর রহমানও ইমরুল হকের পক্ষের জনসভায় উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

ইমরুল হকের পক্ষে এসেছেন তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক রেজাউল ইসলামও। তিনি ২০১১ সালে উপজেলার কলমা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে অংশ নিয়ে হেরে যান। একই ইউনিয়নে ২০১৯ সালে উপনির্বাচন হলে রেজাউল ইসলাম আবার দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে অংশ নিয়ে হেরে যান।

২০১৯ সালে তানোর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি শরীফুল ইসলাম দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ওয়ার্কার্স পার্টিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। ওই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে হেরে যান।

ইমরুল হকের পক্ষে আসা বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এ কে এম আতাউর রহমান। গত ১৬ জানুয়ারি নির্বাচনে তিনি কাকনহাট পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ১৯৮৫ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে অংশ নেন। ২০১৪ সালে আবার বিদ্রোহী প্রার্থী হন তিনি। পরে দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন দেন।

একসময়ের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিজের নির্বাচনী জনসভায় জড়ো করার বিষয়ে ইমরুল হক বলেন, তাঁর ভোট দরকার। এ জন্য সবাইকে বলেছেন। জাতীয় পার্টির লোকেরাও তাঁর পক্ষে কাজ করছেন। এর আগে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট করার ব্যাপারে ইমরুল হক বলেন, তখন কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন দেওয়া হতো না। স্থানীয়ভাবে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হতো। তাই তাকে বিদ্রোহী বলা যাবে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন