কথা হয় বরাতি গ্রামের কাঁঠালবাগানি রহিম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভাইজান, কাঁঠাল নিয়া খুব যন্ত্রণায় আছি। বেচপার লোক পাওছি (পাচ্ছি) না। পাইকারেরাও এবার আসইসোছে (আসছে) না। গরম বেশি হওয়ায় এলাকার মাইনষো বেশি কাঁঠাল খাওছে (খাচ্ছে) না। গাছতে কাঁঠাল নষ্ট হওছে (হচ্ছে)।

ইকরচালী এতিমখানার সামনে সারি সারি কাঁঠালগাছ। পাঁচ একর জমিতে দুই শতাধিক কাঁঠালগাছ আছে। গাছে কাঁঠালও ভালো ধরেছে। বৃহস্পতিবার ওই বাগানের সামনে কথা হয় কাঁঠালবাগান দেখভালের দায়িত্বে থাকা রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গাছভরা কাঁঠাল থাকলেও বিক্রির জন্য ক্রেতা পাচ্ছি না। প্রতিবছর এ গাছগুলোর কাঁঠাল কেনার জন্য পাইকারেরা আগাম টাকা দিয়ে যান। ওই টাকা দিয়ে এতিমখানার বাচ্চাদের খাবার কেনা হতো। এবার বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিয়েও কাঁঠাল বেচতে পারছি না। গাছে কাঁঠালগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

জলুবার গ্রামের সাবলু হকের ৪৫টি কাঁঠালগাছ আছে। স্থানীয় হাটে গত ১৫ দিনে তিনি বাগানের তিন ভাগের এক ভাগ কাঁঠালও প্রত্যাশিত দামে বেচতে পারেননি। গতকাল সকাল ৭টায় ইকরচালী বাজারে ৩৫টি কাঁঠাল নিয়ে এসেছিলেন খুচরা দামে বেচতে। কিন্তু পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ক্রেতা না পাওয়ায় সেই কাঁঠাল তিনি বাজারের পাশে রেখে বাড়ি চলে যান।

default-image

সাবলু বলেন, ‘ভাইজান, লকডাউনের জন্য মানুষ ঘর থাকি বেরাওছে (বের হচ্ছে) না। বাইরের ব্যবসায়ীরাও এ্যালা কাঁঠাল কিনবার আইসোছে না। গতবার যে কাঁঠাল ৫০ টাকা বেচা হইছে, তাক এবার ৫ টাকাতেও নেওছে না। ওই জন্যে রাগ হয়া বাজারের পাশোত কাঁঠাল ফেলে থুইয়া বাড়ি যাওছুন।’

তারাগঞ্জ থানার ওসি ফারুক আহম্মেদ বলেন, ‘ভাই, তারাগঞ্জ থানা চত্বরে শতাধিক গাছ আছে। প্রতিটি গাছে এক থেকে দেড় শ করে কাঁঠাল ধরেছে। ক্রেতার এভাবে কাঁঠালগুলো বাগানেই নষ্ট হচ্ছে। এলাকার লোকে কাঁঠাল বিনা মূল্যে দিলেও নিচ্ছে না।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঊর্মি তাবাসসুম বলেন, আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবার গতবারের তুলনায় কাঁঠালের উৎপাদন বেশি হয়েছে। বাইরের ব্যবসায়ী না আসায় এবং ফলন ভালো হওয়ায় কাঁঠালের বাজারে ধস নেমেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন