৯৯৯-এ কল করা ওই নারীর নাম হনুফা বেগম (৪৫)। বাড়ি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্গম চাটিবহর কোনাগাঁও গ্রামে। তাঁর স্বামী দিনমজুর রহমত আলী। হনুফার কলের পরপরই সিলেট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান কোম্পানীগঞ্জ থানা–পুলিশকে ওই নারী ও গ্রামটির ৩২ পরিবারের জন্য দ্রুত খাবার পাঠানোর নির্দেশনা দেন। এরপর থানার উপপরিদর্শক মো. আজিজুর রহমান, গোপেশ দাশ ও জাহাঙ্গীর আলমসহ কয়েকজন খাবার নিয়ে গ্রামটির উদ্দেশে নৌকায় করে রওনা দেন। রাত ৮টার দিকে পুলিশের সদস্যরা গ্রামটিতে পৌঁছে অভুক্ত পরিবারগুলোর মধ্যে শুকনা খাবার তুলে দেন।

খাবার পেয়ে পেটের ক্ষুধা মিটিয়েছেন হনুফাসহ অন্য পরিবারের সদস্যরা। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মুঠোফোনে হনুফার সঙ্গে প্রথম আলোর কথা হয়। তিনি বলেন, তাঁরা পানিতে আটকা পড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। দুই দিন দুই রাত তাঁরা নৌকাতেই ছিলেন। পানি কিছুটা কমলে তাঁরা গতকাল নৌকা থেকে ঘরে ফেরেন। তবে ঘরে কোনো খাবারই আর মজুত ছিল না। রাস্তাঘাট এখনো ডুবে থাকায় তাঁদের পক্ষে খাবার সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই একজনের কথায় তিনি ৯৯৯-এ কল দেন। পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিক দুধ, খেজুর, বিস্কুট, চিড়া, পানির বোতলসহ নানা ধরনের শুকনা খাবার নিয়ে এসে তাঁদের দেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আজিজুর রহমান বলেন, গ্রামটি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার অধীন হলেও এর অবস্থান সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায়। রাতের অন্ধকারে বন্যার পানি পাড়ি দিয়ে অভুক্ত পরিবারগুলোর কাছে খাবার পৌঁছে দিতে পেরে মনে একটা শান্তিভাব এসেছে।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান বলেন, পুলিশ সদস্যরা এভাবে ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চান।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন