একটি বিমা প্রতিষ্ঠানে মাঠকর্মী হিসেবে কাজ করতেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বলাবুনিয়া গ্রামের সৌরভী মণ্ডল (৪৫)। একই গ্রামের প্রণব কুমার মণ্ডলের কাছে তিনি ১৫ হাজার টাকা পেতেন। ২০১৯ সালের ২ জুলাই ওই টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। ওইদিন রাত ১২টার দিকে সৌরভীর বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরত না দিতে পারার কথা জানান প্রণব। এ সময় সৌরভীর সঙ্গে প্রণবের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সৌরভীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন প্রণব কুমার।

এই হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন বছর পর মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রণব মণ্ডলকে আজ বুধবার রাত ১২টার পর গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ দুপুরে খুলনা পিবিআই কার্যালয়ে পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান প্রেস ব্রিফিং করে এসব তথ্য জানান।

সৈয়দ মোশফিকুর রহমান বলেন, সৌরভী মণ্ডল হত্যার ঘটনাটি ছিল একটি সূত্রহীন মামলা। ২০১৯ সালের ৩ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সৌরভী মণ্ডলকে তাঁর বাড়িতে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় পুলিশ সৌরভীদের প্রতিবেশীদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। পূর্বশত্রুতার জেরে সৌরভীকে হত্যা করা হয়েছে ধারণা করে সৌরভীর স্বামী স্বপন মণ্ডল বাদী হয়ে সাতজনের নামে মামলা করেন।

পরে বাদী স্বপন কুমারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে। ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর ওই মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই। তদন্ত করেন পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক মো. ইকবাল হোসেন। তদন্তের একপর্যায়ে জানতে পারেন, ঘটনার পর থেকে প্রণব মণ্ডল পলাতক। এরপর প্রণব মণ্ডলকে সন্দেহ করতে শুরু করে পিবিআই। করোনাকালীন দুই বছর প্রণব ভারতেই কাটান। গত কয়েক মাস আগে দেশে ফিরে ডুমুরিয়ার কুলটি গ্রামে বাসা ভাড়া নিয়ে পরিবারসহ থাকতে শুরু করেন প্রণব। পরে প্রযুক্তি ও স্থানীয় সোর্স কাজে লাগিয়ে কুলটির ওই বাড়ি থেকে প্রণবকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজ হাতে হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

সৈয়দ মোশফিকুর রহমান বলেন, মামলার মূল রহস্য এখন উন্মোচিত হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই আদালতে মামলার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।