স্থানীয় লোকজন জানান, গ্রামের মানুষ প্রায় সারা বছরই এ গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নেন। গাছের তলায় বসলে সহজে উঠতে মন চায় না। তবে গরমের সময় ভিড় বাড়ে সব বয়সী মানুষের। আশপাশের মানুষও আসেন এ গাছের ছায়ায় আরাম করতে। এলাকাটি চরপাড়া নামে পরিচিত। করতোয়া খালের ওপর প্রায় তিন বিঘা জমির ওপর বটগাছটি ছড়িয়ে আছে।

এ গ্রামের প্রবীণ বরাত আলী সরকার (৭৫) বলেন, তাঁর দাদা ৯৫ বছর বয়সে মারা গেছেন। তিনি বলেছেন, গাছটি এভাবেই তাঁরা দেখেছেন। তখন নানা কারণে গাছটি নিয়ে মানুষের মধ্যে ভয় ছিল। বটতলায় অনেক সাধু-সন্ন্যাসী ধ্যানে মগ্ন হতেন জানিয়ে তিনি বলেন, এখন সাধু-সন্ন্যাসীদের দেখা না মিললেও হিন্দু-মুসলমান উভয় ধর্মের মানুষই গাছটি দেখতে আসেন। অনেকে মানত পূরণ করার জন্য আসেন। প্রতিবছরের জ্যৈষ্ঠ মাসের তৃতীয় মঙ্গলবার বটগাছের নিচে মেলা বসে। করোনার কারণে গত দুই বছর মেলা হয়নি। আশা করছেন আগামী জ্যৈষ্ঠ মাসে মেলা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা রেনু রানী দাস বলেন, টাঙ্গাইল থেকে আসা আত্মীয়দের দেখাতে নিয়ে এসেছেন এ বটগাছটি। প্রতিবছর নির্দিষ্ট তিথিতে এখানে সনাতন ধর্মের লোকজন পূজা করেন। বটগাছটি এলাকার সম্প্রীতির চিহ্ন হয়ে আছে। হিন্দু-মুসলমান উভয় ধর্মের লোকজনই সমান গুরুত্ব দেন গাছটিকে।

স্থানীয় আবদুল কাইয়ুম (৬৫) বলেন, নানা রকমের সংস্কারের কারণে এ বটগাছের পাতা ও ডাল কেউ ব্যবহার করেন না। তাই বছরের পর বছর ধরে শুধু গাছটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।

সিরাজগঞ্জ শহর থেকে মেয়েকে নিয়ে বটগাছটি দেখতে এসেছেন প্রদীপ সাহা। তিনি বলেন, ‘অনেক কথা শুনেছি বটগাছটি নিয়ে। আজ এখানে এসে যা দেখলাম তা শোনার চেয়ে অনেক বেশি।’ বটগাছটিকে ঘিরে এখানে পর্যটনশিল্প গড়ে তোলা যেতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, বেড়াতে আসা লোকজনের সুবিধার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা করা দরকার।

পাশের ইচলাকান্দা গ্রামের নূর মোহাম্মদ আকন্দ বলেন, প্রতিদিনই বটগাছটি দেখতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন আসেন। কিন্তু রাস্তাটি এখনো কাঁচা। সবে ইট ফেলার কাজ চলছে। লোকজনের সুবিধার জন্য রাস্তা পাকাকরণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা দরকার বলে জানান তিনি।

চান্দাইকোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হান্নান খান বলেন, কয়েক শ বছরের পুরোনো বটগাছটি ঘিরে এলাকায় নানামুখী উন্নয়নকাজ করা হচ্ছে।