গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী নগরের মাস্টারপাড়া মণিচত্বর বাজার থেকে ২ কেজি পেঁয়াজ কিনছিলেন গৃহিণী সালমা খাতুন। ২ কেজি পেঁয়াজের দাম পড়ল ৮০ টাকা। সঙ্গে আধা কেজি রসুনও নিয়েছেন তিনি। দাম পড়েছে ৪০ টাকা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের আগে তিনি চার কেজির মতো পেঁয়াজ কিনেছিলেন ২৫ টাকায়। সেই পেঁয়াজের দাম এক সপ্তাহের মধ্যে ১৫ টাকা বেড়ে গেছে।

এই বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মো. সবুজ মিয়া আজ পেঁয়াজ কিনেছেন ৩৫ টাকায়। তিনি প্রতিদিন পেঁয়াজ কিনে বিক্রি করেন। তিনি কেনার রসিদ দেখিয়ে বলেন, ঈদের আগে এই একই পেঁয়াজ তিনি ২০-২২ টাকায় কিনে ২৫ টাকায় বিক্রি করেছেন। ঈদের পর তাঁদেরই কিনতে হয়েছে ১২-১৫ টাকা বেশি দিয়ে।

এই বাজারে মেসার্স আকিফ ট্রেডার্সের ম্যানেজার মো. আনাছ বলেন, ভারত থেকে আমদানি বন্ধের খবরে পেঁয়াজ বেশি দামে কিনতে হচ্ছে তাঁদের। এ কারণে দাম বেড়ে যাচ্ছে।

পেঁয়াজের দাম বাড়লেও কৃষকের কাছে এখন পেঁয়াজ নেই। তাই তাঁরা দামও পাচ্ছেন না। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কৃষক আসাদুল ইসলাম এ বছর ৫০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছিলেন। তাঁর এ বছর পেঁয়াজ চাষে ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, পেঁয়াজ আমদানি আগে বন্ধ করা হলে তাঁরা পেঁয়াজের দাম পেতেন। কিন্তু ব্যবসায়ীদের কাছে বেশির ভাগ পেঁয়াজ চলে গেছে। এ কারণে এখন পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করা হলো। এগুলো সবাই বোঝে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের খবরে এদেশীয় কিছু ব্যবসায়ী দাম বাড়াচ্ছেন। গত তিন-চার দিনে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০ টাকা। এ ছাড়া রসুনের দামও বেড়েছে। এই বেশি দাম কিন্তু কৃষক পাচ্ছেন না। চলে যাচ্ছে ব্যবসায়ীদের হাতে। সয়াবিন তেলের মতো এই পণ্যগুলোও গুদামে রাখা শুরু করে সংকট বাড়াবে। দাম বাড়ার আগেই অভিযান চালাতে হবে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক অপূর্ব অধিকারী বলেন, তাঁরা এখন সয়াবিন তেলের মজুত বন্ধে অভিযান চালাচ্ছেন বেশি করে। এর মধ্যে আমদানি বন্ধের খবরে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। অথচ বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ ভালো।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন