জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে অভ্যন্তরীণ গম সংগ্রহের আওতায় সারা দেশে দেড় লাখ মেট্রিক টন গম কেনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। জেলায় গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ হাজার ২৮২ মেট্রিক টন। প্রতি কেজি ২৮ টাকা দরে গম কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে লটারির মাধ্যমে ২৪ হাজার ২৮২ কৃষককে সরকারি গুদামে গম বিক্রির জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। গত ১ এপ্রিল থেকে জেলায় সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। প্রায় ৪০ দিন পর গত মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলায় ৫টি উপজেলার মধ্যে ৪টি উপজেলায় মাত্র ৪ মেট্রিক টন গম কেনা হয়েছে।

সদর উপজেলার খোঁচাবাড়ি, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাহিড়ী, রানীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ ও হরিপুরের যাদুরানী হাটে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে প্রতি বস্তা (৮০ কেজিতে ১ বস্তা) গম ২ হাজার ৬০০ টাকাতে বিক্রি হচ্ছে। সে হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়ে ৩২ টাকা ৫০ পয়সা।

জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক প্রদীপ রায় (৬১) বলেন, গত কয়েক বছর সরকারি গুদামে গম বিক্রি করেছেন। এতে কিছু টাকা লাভ হয়েছিল। এ বছর সরকার যে দর দিয়েছে, তাতে প্রতি টনে তিন হাজার টাকার ওপরে লোকসান হবে। কৃষক কেন লোকসান দিয়ে সরকারের কাছে গম বিক্রি করবেন?

বেগুনবাড়ি গ্রামের কৃষক আবদুর রহমান (৪৮) বলেন, ‘এখন সরকার দাম বাড়ালেও কৃষকেরা গুদামে গম দিতে পারবেন না। কারণ, আমাদের কাছে তো আর গম মজুত নেই।’

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি গুদামে গম বিক্রির জন্য গত ১৮ এপ্রিল বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় লটারির মাধ্যমে ১ হাজার ৯৭৫ জন কৃষককে নির্বাচিত করা হয়। কিন্তু আগ্রহী কৃষক না পাওয়ায় সেখানে চলতি বছরের গম সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করা যায়নি।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিখিল রায় বলেন, সরকারি যে দাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে, স্থানীয় বাজারে এখন সেই দামের চেয়েও বেশিতে গম বেচাকেনা হচ্ছে। যে কারণে খাদ্যগুদামে গম বিক্রি করতে নির্বাচিত কৃষকেরাও আসছেন না।

এ বছর ছয় বিঘা জমিতে গম চাষ করেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পারিয়া গ্রামের কৃষক খসিয়ার রহমান (৫২)। প্রতি বিঘায় গড়ে ৩০ মণ করে ১৮০ মণ গম পেয়েছেন তিনি। গুদামে গম দেওয়ার জন্য এবার লটারিতে তিনি নির্বাচিতও হন। কিন্তু বর্তমানে সরকারের দর বাজার দরের চেয়ে কম হওয়ায় সরকারি গুদামে গম বিক্রিতে তাঁর কোনো আগ্রহ নেই।

গত ১৩ এপ্রিল হরিপুর উপজেলার চৌরঙ্গী এলাকার কৃষক মোজাফ্ফর হোসেনের কাছ থেকে এক মেট্রিক টন গম নিয়ে উপজেলায় গম সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু এরপর সেখানে আর কোনো কৃষক গম বিক্রি করতে আসেননি। কৃষক মোজাফ্ফর মুঠোফোনে বলেন, খাদ্য বিভাগের অনুরোধে গুদামে গম দিতে বাধ্য হয়েছি। তবে সে সময় বাজারে প্রতি কেজি গমের দামও ২৮ টাকা থাকায় লোকসান হয়নি।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনিরুল ইসলাম বলেন, জেলার খোলাবাজারে এখন প্রতি কেজি গম ৩১–৩২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর সরকার নির্ধারিত দর ২৮ টাকা। কৃষক যেখানে ফসলের দাম বেশি পাবেন, সেখানেই বিক্রি করবেন। এটাই স্বাভাবিক। গমের দর বাড়তি থাকলে চলতি মৌসুমের সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ হওয়ার সুযোগ নেই।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন