বিজ্ঞাপন

ভাঁড়ারা গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামের এক কৃষক জমি থেকে ধান কাটছিলেন। এ সময় তিনি হঠাৎ করেই ধানের জমিতে গন্ধগোকুলের তিনটি ছানা দেখতে পান। বাঘশাবক মনে করে তিনি সেগুলোকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে গ্রামের লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে জেলা পুলিশের নির্ধারিত নম্বরে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানান। বিকেলে পুলিশের একটি দল ওই গ্রামে গিয়ে ছানাগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

default-image

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিম আহম্মেদ জানান, তাঁরা প্রথমে ছানাগুলোকে মাছ খেতে দিয়েছিলেন। কিন্তু কিছুতেই ছানাগুলো মাছ খাচ্ছিল না। খবর পেয়ে রাতে পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান থানায় হাজির হন। তিনি জেলার বন্য প্রাণীবিষয়ক সংগঠন নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁদের ছবি পাঠিয়ে নিশ্চিত হন ছানাগুলো গন্ধগোকুলের। এরা দুধ খেতে পছন্দ করে। পরে রাতেই তিনি ছানাগুলোর জন্য দুধ ও ফিডার কিনে দেন। একই সঙ্গে একজন পুলিশ সদস্যকে ছানাগুলোর দেখভালের দায়িত্ব দেন।

থানায় ছানাগুলোর দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য জাহিদ হোসেন বলেন, উদ্ধারের সময় ছানাগুলো বেশ ক্ষুধার্থ ও দুর্বল ছিল। দুধ দেওয়ার পর থেকে ওরা বেশ সবল হয়ে উঠেছে। ভালোভাবেই দুধ পান করছে। এখন বেশ ভালো আছে।

নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন কমিউনিটির সভাপতি এহসান আলী বিশ্বাস বলেন, ছানাগুলো গন্ধগোকুল–জাতীয় প্রাণী। এরা ছোট খাটাশ, ভাম, খাটাশ ও ছোট বাঘডাশ নামে পরিচিত। এরা প্রায় সব ধরনের ফল, বিভিন্ন ছোট প্রাণী, পতঙ্গ এবং তাল-খেজুরের রস খেতে পছন্দ করে। দেশভেদে এদের খাবার তারতম্য হয়। কফি এদের অন্যতম প্রিয় খাদ্য। এরা বাঁশবন-ঘাসবন ও ঝোপঝাড়ে বসবাস করে। নিজে গর্ত তৈরি করে আশ্রয়স্থল বানায় এবং সেখানেই বাচ্চা প্রসব করে। বাসভূমি ধ্বংসের কারণে এরা বর্তমানে বিপন্ন।

এ প্রসঙ্গে পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান প্রথম আলোকে বলেন, সার্বক্ষণিক গন্ধগোকুলের ছানাগুলোর খোঁজখবর রাখছেন। ছানাগুলো এখন পুরোপুরি সুস্থ আছে। বিষয়টি বন বিভাগকে জানানো হয়েছে। তাঁরা ছানাগুলোকে নিয়ে রাজশাহী বন্য প্রাণী পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখবেন বলেছেন। বন বিভাগের কর্মকর্তারা এলে তাঁদের কাছে ছানাগুলো হস্তান্তর করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন