default-image

দুজনের নাম ভিন্ন। একজনের নাম আশরাফ আলী, অপরজনের মিন্টু মোল্যা। তাঁদের পেশাও ভিন্ন। আশরাফ ব্যবসায়ী আর মিন্টু মোল্যা গাছ কাটার শ্রমিক। আশরাফ একটি মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। মিন্টু এলাকায় নিরীহ হিসেবে পরিচিত।

তবে দুজনের বাবার নাম এক, মোহর আলী। শুধু বাবার নামের মিল থাকায় পুলিশ আসামি আশরাফের বদলে মিন্টুকে (৪৩) গ্রেপ্তার করে। আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। অবশেষে আদালতের নির্দেশে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। ৩ মাস ২৫ দিন পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।

মিন্টু যশোরের বেনাপোল বন্দর থানার দীঘিরপাড় গ্রামের মোহর আলীর ছেলে। তিনি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বেনেয়ালী গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। অন্যদিকে আশরাফ যশোরের বেনাপোল বন্দর থানার দীঘিরপাড় গ্রামের মোহর আলীর ছেলে।

মুক্তির পর মিন্টু বলেন, ‘কারাগারে থাকায় আমার স্ত্রী ধানের চাতালে এবং মাটি কাটার শ্রমিকের কাজ করে খেয়ে না-খেয়ে সংসার চালিয়েছেন। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমি ক্ষতিপূরণ চাই।’ মিন্টু জানান, তিনি গাছ কাটার শ্রমিকের কাজ করতেন। যেদিন কাজ হতো না, সেদিন তিনি ব্যাটারিচালিত ভ্যান ভাড়া নিয়ে চালাতেন। তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। ২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে স্থানীয় চৌকিদার কালা কবিরকে নিয়ে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে যান বেনাপোল বন্দর থানার এসআই শফি আহমেদ। এ সময় তিনি তাঁকে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত দীঘিরপাড় এলাকার মৃত মোহর আলীর ছেলে আশরাফ আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি দেখান। তিনি এসআইকে বলেন, ‘আসামি আমি না, মামলা আমার না।’ তারপরও তিনি আশরাফ আলী বলে তাঁকে আটক করে নিয়ে যান।

বিজ্ঞাপন

গত শনিবার যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শনে যায় বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) প্যারা লিগ্যাল টিম। এ সময় মিন্টু তাঁদের কাছেও অভিযোগ করেন, তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত আশরাফ আলী নন। যশোরে ব্লাস্টের কো-অর্ডিনেটর মোস্তফা হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে আদালতকে অবহিত করে তাঁর (মিন্টু) মুক্তির জন্য আবেদন করি। আদালত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে মিন্টু মোল্যাকে অব্যাহতি দেন।’

ব্লাস্ট সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর যশোরের আদালত চেক জালিয়াতির মামলায় আশরাফ আলীকে এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন।

এ বিষয়ে বেনাপোল বন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফি আহমেদ বলেন, ‘এইটুকু মনে আছে, গ্রেপ্তারের পর বেনাপোল পৌরসভার কাউন্সিলর এবং স্থানীয় চৌকিদার তাঁকে আশরাফ আলী বলে শনাক্ত করেছিলেন। সেই সময়ে আদালতে দেওয়া প্রত্যয়নপত্রে বিষয়টি উল্লেখ আছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন