বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব-১২) বগুড়া ক্যাম্পের ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশালাইজড কোম্পানির সদস্যরা রোববার বিকেলে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় দালাল চক্রের ১৫ সদস্যকে আটক করা হয়। পরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস তাঁদের কারাদণ্ড দেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত দালাল চক্রের সদস্য বগুড়া শহরের মালগ্রামের মঈনুল ইসলাম (২১), গাবতলী উপজেলার ধোড়া গ্রামের দুলু মিয়া (৩০), উনঞ্চুরকী গ্রামের ফজল মিয়া (৪৮), তেলিহাটা গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৪০), বগুড়া শহরের নামাজগড় এলাকার অনুরাগ (৩৮), শাজাহানপুর উপজেলার কাজলগেট গ্রামের আরিফুল ইসলাম (২২), চাঙ্গুইর পূর্ব পাড়ার সাকিব হোসেন (২০), ফুলদীঘি এলাকার মিল্লাত হোসেন (২৫), মোল্লাপাড়ার আবু বক্কর (৩৫), দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরের বাপ্পী শেখ (২২), সোনাতলা উপজেলার দিগদাইড় গ্রামের মাসুম বিল্লাহ (২২), বগুড়া সদরের ধনিয়া গ্রামের শনিচন্দ্র (৩৮), চাঁদমূহা সরলপুর গ্রামের জাহিদ হোসেনকে (৫২) এক মাস করে কারাদণ্ড দেন।

এ ছাড়া বগুড়া সদরের কর্ণপুর গ্রামের নুর হোসেন (৬০) এবং শাজাহানপুর উপজেলার রানীরহাট গ্রামের রবিউল ইসলামকে (২৩) ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

র‌্যাব সূত্র জানায়, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আশপাশে গড়ে ওঠা রোগনির্ণয়কেন্দ্র, ওষুধের দোকান, রোগী ও লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় দালাল চক্রের শতাধিক সদস্য। এ দালাল চক্রের কাছে জিম্মি বিভিন্ন জেলা থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।

র‌্যাব সূত্র জানায়, হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে ওত পেতে থাকেন দালাল চক্রের সদস্যরা। এরপর তাঁরা কৌশলে রোগীদের অখ্যাত রোগনির্ণয় কেন্দ্র ও ক্লিনিকে নেওয়ার পর মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেন। এ ছাড়া রয়েছে ফার্মেসিকেন্দ্রিকও দালাল চক্র। তাঁরা হাসপাতালের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে রোগীর পাশে ঘুরঘুর করেন। রোগী বা স্বজনদের হাতে ওষুধের তালিকা দেখামাত্র নানাভাবে বিভ্রান্ত করে নিজেদের ফার্মেসিতে নিয়ে যান। সেখানে ওষুধের দাম তিন থেকে চার গুণ বেশি ধরে বিল করে হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়। বেশি নেওয়া টাকা পরে ফার্মেসি থেকে বুঝে নেন দালালেরা। এ ছাড়া লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিতে গিয়েও স্বজনদের জিম্মি করা হয়। ভাড়া আদায় করা হয় তিন থেকে চার গুণ বেশি।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকেন্দ্রিক এই দালাল চক্রের তৎপরতা ঠেকাতে রোববার সেখানে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বগুড়া র‌্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ও স্কোয়াড্রন লিডার সোহরাব হোসেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন