বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

প্রতিবন্ধী ওই দুই শিক্ষার্থী হচ্ছে উপজেলার রতনগঞ্জ গ্রামের সাঈদ মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া (১৪) ও মাশুমদিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের আলিম খানের মেয়ে রুপা খাতুন (১২)। তারা উপজেলার মাসুমদিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন মীরপুর গ্রামের সুপ্ত শিখা প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের তৃতীয় ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

১৫ জুন প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘পবিত্র ঈদুল ফিতর-২০২১ শুভেচ্ছা কার্ডে ব্যবহৃত আপনার আঁকা ছবির সম্মানী হিসেবে  প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে এককালীন এক লাখ টাকা দিয়েছেন। এ অবস্থায় আপনার অনুকূলে প্রস্তুতকৃত চেক এ কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করার অনুরোধ করা হলো।’

একই চিঠি দুই শিক্ষার্থীর নামে আলাদাভাবে পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠি পাওয়ার পর সুপ্ত শিখা প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ওই দুই শিক্ষার্থী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে।

এ বিষয়ে সুপ্ত শিখা প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও মাশুমদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মিরোজ হোসেন বলেন, ‘আমাদের দুই শিক্ষার্থী শুধু বিদ্যালয়ের জন্যই নয়, গোটা এলাকার জন্য অনন্য সম্মান বয়ে এনেছে। এটি আমাদের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমাদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’

মিরোজ হোসেন ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সালাম খান বলেন, দুই শিক্ষার্থীর আঁকা ছবি যে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা কার্ডে ব্যবহৃত হয়েছে, তা তাঁরা আগে কেউই জানতেন না। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গতকাল চিঠি আসার পর তাঁরা বিষয়টি জানতে পারেন। মাস ছয়েক আগে সারা দেশে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা হয়েছিল। এরই অংশ হিসেবে ওই সময় বেড়া উপজেলাতেও এ ধরনের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তাঁদের বিদ্যালয়ের কয়েকজন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী তাতে অংশ নেয়। পরে তৎকালীন ইউএনও আসিফ আনাম সিদ্দিকী প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী হৃদয় ও রুপার ছবি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠান। শেষ পর্যন্ত পাঠানো সেই ছবি দুটি প্রধানমন্ত্রীর গত ঈদুল ফিতরের ঈদ শুভেচ্ছা কার্ডে ব্যবহৃত হয়।

বিদ্যালয়ের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহা. সবুর আলী বলেন, ‘একেবারে প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যালয়টির অবস্থান। এমন প্রত্যন্ত এলাকার দুই শিক্ষার্থীর অর্জনে আমরা খুবই আনন্দিত। সবাই আজ মিষ্টিমুখ করেছি।’

দুই শিক্ষার্থীর বাবা আলিম খান ও সাঈদ মিয়া আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, ‘সন্তানদের জন্য আজ আমরা গর্বিত। ওদের এমন অর্জনে আমরা খুবই খুশি। সবাই খুব প্রশংসা করছেন। সন্তানদের এমনভাবে সম্মানিত করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমরা অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাই।’

প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষাদানের লক্ষ্য নিয়ে পাবনার বেড়া উপজেলার মাশুমদিয়া ইউনিয়নের নতুন মীরপুর গ্রামে ২০০৭ সালে সুপ্ত শিখা প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন ইউপি চেয়ারম্যান মিরোজ হোসেন। বর্তমানে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ২৮০ জন শিক্ষার্থী ৩০ জন শিক্ষক রয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন