পুলিশ বলছে, গতকাল ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পরই আল আমিন তাঁর দুই শিশুসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। পরে গতকাল রাতে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল রায়পুরার শ্রীনিধি রেলস্টেশন এলাকা থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিসহ দুই শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে আসে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আল আমিন এলাকায় একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। সৌদিতে থাকা তাঁর স্ত্রী সাকিনা আক্তারের (২৫) পাঠানো টাকায় তাঁদের সংসার চলে। পুলিশ বলছে, স্ত্রী সাকিনার কাছে মাদকের জন্য টাকা চাইতেই ওই শিশু দুটিকে নির্যাতন করেছিলেন বাবা মো. আল আমিন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাত বছর আগে সাকিনার সঙ্গে আল আমিনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। সাত মাস আগে শিশু দুটিকে বাবার কাছে রেখে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে যান সাকিনা। অন্যদিকে আল আমিন বিভিন্ন মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন। নিয়মিত মাদকের টাকা না পাঠালে এ রকম মারধর করে স্ত্রীর কাছে ভিডিও পাঠাতেন তিনি।

চান্দেরকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খন্দকার বলেন, ‘ভিডিওটি দেখে নিজেকে স্থির রাখতে পারছিলাম না। পরে ওই বাড়িতে গিয়ে জেনেছি, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ভয়ে আল আমিন তাঁর দুই শিশুসন্তানসহ পালিয়েছেন। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি মাস তিনেক আগে আল আমিনের নিজের ফোনেই ধারণ করা।’ তিনি আরও বলেন, এই ভিডিও তিন মাস আগের হলেও গতকাল তার কাছের কেউ এটি ফেসবুকে পোস্ট করে দেয়। এত দিন এ বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানতেন না।

সন্তানদের মা সাকিনা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর স্বামী আল আমিন প্রায়ই টাকার জন্য চাপ দিতেন। তা না দিলে সন্তানদের এমন নির্যাতন করে ভিডিও পাঠাতেন।

পুলিশ বলছে, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় আল আমিন দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে মুঠোফোন বন্ধ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রায়পুরার শ্রীনিধি রেলস্টেশন এলাকা থেকে আল আমিনকে আটক করে সন্তানদের উদ্ধার করা হয়। পরে রাত আটটার দিকে তাদের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। সেখানে শিশু দুটিকে নতুন জামা কিনে দেন পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম।

পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম বলেন, শিশু দুটির বাবা মো. আল আমিন একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। গতকাল রাতে তাঁকে আটক করে আনা হয়েছে। এখনো তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। শিশু দুটির পরিবারের অন্য সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন