পুলিশ সূত্র জানায়, ওই নারীর নাম আরিফা খাতুন (৪০)। তিনি কাপাসিয়ার বিবাদিয়া গ্রামের মৃত আবদুল মালেকের স্ত্রী। দুপুরের দিকে ওই নারী তাঁর দুই মেয়ে তাহমিনা আক্তার (৯) ও মুরশিদাকে (৮) নিয়ে বানার নদে ঝাঁপ দেন। এর মধ্যে জেলেদের সহায়তায় তাহমিনাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সে এখন পুলিশের হেফাজতে আছে। অপর দুজনের খোঁজে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

শিশু তাহমিনা বলে, ‘আমার চিকিৎসা করার জন্য মা বরমী বাজারে রওনা হন। মা আমাকে ও আমার ছোটবোন মুর্শিদাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার দূরে নদীর পাড়ে আসেন। ছোট বোনকে কোলে নিয়ে এক হাতে আমাকে ধরে নদীতে ঝাঁপ দেন। মায়ের হাত থেকে ছুটে আমি একটি বাঁশ দেখতে পেয়ে তা ধরে থাকি। আশেপাশের লোকজন আমাকে উদ্ধার করে একটি ওষুধের দোকানে নিয়ে যান।’

কাপাসিয়া থানার সিংহশ্রী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফজলুল হক প্রথম আলোকে বলেন, উদ্ধার শিশুর সঙ্গে কথা বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন, বানার নদে ওই মা তাঁর দুই সন্তানসহ ঝাঁপ দেন। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে মাছ শিকার করতে যাওয়া জেলেরা দ্রুত নৌকা নিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন।

ওই নারীর পরিবারের বরাতে পুলিশ ফজলুল হক আরও বলেন, আরিফা খাতুন মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে তিনি কেন নদে ঝাঁপ দিলেন, সে বিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারেননি। আরিফা ও তাঁর অন্য মেয়েকে উদ্ধারে সার্ভিসের ডুবুরি দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। আজ সন্ধ্যায় প্রথম দিনের অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন