ছেলেকে দেখতে হাসপাতালে এসেছেন বাবা মাহাবুবুর রহমান (৩৮)। তিনি আড়াই বছর আগে দুর্ঘটনায় এক পা হারিয়েছেন। তিনি বললেন, আরেক পায়ে লোহার রড পরানো আছে। টাকার অভাবে তা বের করতে পারেননি। ছেলে স্থানীয় একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র মাসুম, পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে মাইশা (৫) আর স্ত্রী বিউটি বেগমকে (৩৪) নিয়ে কষ্টের সংসার তাঁর। বাড়ির পাশে নিজের ছোট একটি দোকান আছে, তবে পুঁজি নেই বলে দোকানে তেমন মালামাল নেই। নেই বেচাবিক্রিও। স্ত্রী একটি প্রতিষ্ঠানে রান্নার কাজ করে যে টাকা পান, তা দিয়ে কোনোরকমে চলে তাঁদের সংসার।

মাহাবুবুর রহমান বলেন, তাঁর জন্ম পুঠিয়াতে। ২০০০ সালে তিনি ঢাকায় যান। সেখানে রিকশা চালাতেন। ২০০৪ সালে ফরিদপুরের মেয়ে বিউটি বেগমকে বিয়ে করেন। ২০১৯ সালের নভেম্বরে ট্রাকচাপায় তিনি এক পা হারান। আড়াই বছর ধরে পরিবার নিয়ে ভাইয়ের এক পরিত্যক্ত ঘরে তিনি থাকছেন। আক্ষেপ করতে করতে তিনি বলছিলেন, ‘আমার জীবন দুঃখে ভরা। এখন আমার কলিজার টুকরা ছেলেটাও দুর্ঘটনায় পড়ল। ছেলেটাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। ও বড় হবে। ওকে লেখাপড়া শেখাব। কিন্তু জানি না, ওর কপালে কী আছে। দুর্ঘটনা কী, সেটা আমি জানি। আল্লাহ আল্লাহ করছি, আমার আদরের ধনটা যেন ভালো হয়ে যায়।’

ছেলের চিকিৎসা কীভাবে হবে, এ নিয়ে চিন্তায় আছেন মা বিউটি বেগম। তিনি বলেন, ‘আমাদের জীবনটা এমনই। ঘর নেই, ভিটে নেই। পাশে কোনো মানুষও নেই। সরকার বাড়ি করে দিল। আমাদের খবর কেউ নিল না। একটা বাড়ি পেলে অনেক দোয়া করতাম। প্রতিদিনই ভাবি, কবে একটা ঘর হবে। এখন চিন্তায় আছি, আমার ছেলেটা ভালো হোক তাড়াতাড়ি।’

মাসুমের বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. নওশাদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, মাসুম এখন আশঙ্কামুক্ত। সে এক পায়ে আঘাত পেয়েছে। আপাতত অস্ত্রোপচার করতে হবে না। তবে শিগগিরই অস্ত্রোপচার করা হবে।

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহরাওয়ার্দী হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা শুনেছেন, মাটি টানার গাড়িতে ওই শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। তবে তাঁরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছেন। হাসপাতালেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন