টিকা নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন মাসাবো এলাকার মঞ্জুরুল ইসলাম, মিছির আলী ও মো. মাইদুল। তাঁদের মধ্যে একজনের সঙ্গে প্রথম আলোর কথা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘কাউন্সিলর সাব দিতে চাইছে, আমি না করতে পারি নাই। এগুলা দেয়ার তো নিয়ম আছে, উনি তো আর নিয়ম জানেন না। আমার একটু ভয় লাগতাছে।’

জানতে চাইলে রাসেল সিকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজ ধারণার চেয়েও বেশি ভিড় ছিল। পৌরসভা থেকে পাঁচজন স্বাস্থ্যকর্মী দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু তাঁরা চাপ সামলাতে পারছিলেন না। পরে আমি ভাবলাম, হেল্প করি। ছাত্রলীগ-যুবলীগের ২৫-৩০ জন ভিড় মেনটেইন করেছেন। আর আমি টিকা দিয়েছি।’ প্রশিক্ষণ ছাড়া টিকা দিতে পারেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে দুজন পরিদর্শনে আসছিলেন। তাঁরা সেখানে ছিলেন। আমার টিকা দেওয়া দেখে বলেছেন, সুন্দর হয়েছে। তা ছাড়া স্বাস্থ্যকর্মীরা আমার এখানে বিভিন্ন সময় টিকা দেন। আমি সেগুলো দেখে দেখে শিখছি। আজও তাঁরা আমারে শিখিয়ে দিয়েছেন। তিনজনরে দেওয়ার পর মনে হয়েছে, বিষয়টা বেআইনি হতে পারে। এ জন্য পরে আর দিইনি।’

তবে ঘটনাস্থলে থাকা একজন প্রত্যক্ষদর্শী অভিযোগ করেন, মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে টিকা দিয়েছেন। কাউন্সিলর সেখানে আসার পর লাইন ভেঙে তাঁর সঙ্গে আসা তিনজনের শরীরে টিকা পুশ করেন। টিকা পুশ করা দুজন তাঁর পরিচিত এবং একজন তাঁর প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী বলে কাউন্সিলর স্বীকার করেছেন।

প্রশিক্ষণ ছাড়া কেউ টিকা দিতে পারেন কি না, জানতে চাইলে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মশিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্ধারিত স্বাস্থ্যকর্মীদের বাইরে কারও টিকা দেওয়ার নিয়ম নেই। সে ক্ষেত্রে নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।’ কাউন্সিলরের টিকা পুশ করার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। আমাদের কেউ এর সঙ্গে জড়িত থাকলে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন