default-image

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার মোহনপুর পূর্ব বাজারের স্টুডিও ব্যবসায়ী নারায়ণ চন্দ্র পাল হত্যার ঘটনায় মো. ফিরোজ সরকার (২৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক নাসরিন জাহান ওই আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ফিরোজ সরকার দেবীদ্বার উপজেলার বাউরা গ্রামের প্রয়াত শব্দর আলী সরকারের ছেলে। আদালত মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাঁর ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। ফিরোজ বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে গ্রেপ্তার আছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার মোহনপুর বাজারে মোহনপুর গ্রামের সুরেশ চন্দ্র পালের ছেলে নারায়ণ চন্দ্র পালের (২৬) সুমা ডিজিটাল স্টুডিও নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল। ২০১৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার পর থেকে পরদিন ১১ সেপ্টেম্বর ভোর ছয়টার মধ্যে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা নারায়ণ চন্দ্র পালের হাত-পা বৈদ্যুতিক তার দিয়ে বেঁধে গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। ১১ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার পর স্টুডিওর ভেতর থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ভাই দুলাল চন্দ্র পাল বাদী হয়ে ওই দিন বেলা আড়াইটায় মিনিটে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি মুঠোফোন উদ্ধার করে। ওই মুঠোফোনের সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত করে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হিসেবে মো. ফিরোজ সরকারকে (২৫) শনাক্ত করে। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, ল্যাপটপ নিতে রাতে নারায়ণের সঙ্গে ঘুমান তিনি। মধ্যরাতে প্রথমে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে নারায়ণকে বাঁধেন। এরপর ইলেকট্রিক শক দেন। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য গলায় ছুরি চালান।

দীর্ঘ ছয় বছর পাঁচ মাস পর মঙ্গলবার এই মামলার রায় দেওয়া হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এডি পিপি) মো. নুরুল ইসলাম ও আসামিপক্ষে ছিলেন ইলিয়াস মিন্টু ও জয়দেব চন্দ্র সাহা।

মামলার বাদী দুলাল চন্দ্র পাল এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘সাড়ে ছয় বছরের মধ্যে আমরা মামলার রায় পেয়েছি। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী ইলিয়াস মিন্টু বলেন, ‘লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ড। আসামিপক্ষকে বলেছিলাম, এই হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচার কোনো সুযোগ নেই। রায়ে তা-ই হলো।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন