স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, গত জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে ভারী বৃষ্টির কারণে শশা সেতুর কাছে অন্তত ৭০ মিটার দৈর্ঘ্য ও তিন মিটার প্রশস্ত অংশে ছয় ফুট গভীরতায় সড়কটি দেবে যায়। সড়ক বিভাগ ওই অংশে বালুভর্তি বস্তা ফেলে, কয়েকটি বাঁশ গেড়ে ও লাল নিশান উড়িয়ে কাজ শেষ করে। কিন্তু ওই এলাকায় ছয় ফুট গর্ত ভরাটের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ওই ৭০ মিটার অংশে ছয় ফুট গভীর খাদ থেকেই যায়। এরই মধ্যে প্রায় সাত মাস পার হয়ে গেছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ, কৃষিপণ্যের ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করছে।

সড়ক দিয়ে চলাচলকারী বাস ও ইজিবাইকের কয়েকজন চালক বলেন, দেবে যাওয়া অংশে সংস্কারের নামে সরকারের অর্থ অপচয় হলেও তা কোনো কাজেই আসছে না। বাসচালক জাকির হোসেন (৫৫) প্রথম আলোকে বলেন, ১২ বছর ধরে তিনি ওই সড়কে গাড়ি চালান। দুদিন পরপর সড়কের ওই অংশের জন্য তাঁদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়িকে সাইড দিতে গিয়ে বেশি সমস্যা হয়। কখন যে গাড়ি উল্টে যায়, সেই শঙ্কায় বুক ধড়ফড় করে।

স্থানীয় ব্যক্তিরা বলছেন, সড়কের নির্মাণকাজ যথাযথভাবে না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে সড়ক দেবে যাচ্ছে। দেবে যাওয়া সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন যানবাহন চলাচল করছে।

নগরকান্দার বাসিন্দা ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের স্নাতকের শিক্ষার্থী সুদীপ কুমার মণ্ডল (২২) প্রথম আলোকে বলেন, ‘শশা এলাকায় সড়কটি প্রায়ই দেবে যায়। সড়ক বিভাগ দায়সারা সংস্কার করে। কিন্তু দুদিন পর আবার দেবে যায়। এতে আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই।’

লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, শশা সেতুসংলগ্ন সড়কের পাশে প্যালাসাইডিং না থাকায় ও একটানা ভারী বৃষ্টি হওয়ায় কিছু অংশ দেবে যায়। সড়কের ওই অংশ নিয়ে দুর্ভোগের শেষ নেই। এলাকাবাসীকে দেবে যাওয়া সড়কের ওই অংশটুকু নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে দিতে কাহিল হয়ে পড়েছেন।

ফরিদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান বলেন, সড়ক দেবে যাওয়ার পর তা থামাতে তাৎক্ষণিকভাবে গর্তের মধ্যে বল্লি গেড়ে বালির বস্তা দেওয়া হয়। কয়েক দিনের মধ্যে সড়কের স্থায়ী সংস্কারের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন