বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কেসিসি সূত্রে জানা যায়, খুলনা সিটি করপোরেশনের অধীনে সাতটি পার্ক রয়েছে। এর মধ্যে গত বছরের নভেম্বরের দিকে নিরালা পার্ক ও গোলকমনি শিশুপার্ক সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর খুলে দেওয়া হয়েছে গল্লামারীতে ময়ূর নদের পাড়ে অবস্থিত লিনিয়ার পার্ক। আর গতকাল বৃহস্পতিবার খুলে দেওয়া হয় শহীদ হাদিস পার্ক, জাতিসংঘ শিশুপার্ক ও সোলার পার্ক। ওই তিনটি পার্কই খুলনার মধ্যে সবচেয়ে বড় ও মানুষের প্রধান বিনোদনের স্থান। তবে এখনই খালিশপুরে অবস্থিত ওয়ান্ডারল্যান্ড শিশুপার্ক খুলছে না। ওই পার্কের সংস্কারকাজ চলছে। ওই কাজ শেষ হলে পার্কটি খোলা হবে। আগে পার্কটি ইজারা দেওয়া থাকলেও এখন থেকে সেটি সিটি করপোরেশনের আওতায় পরিচালিত হবে।

বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে হাদিস পার্কে গিয়ে দেখা যায় মানুষের ভিড়। কেউ শহীদ মিনারের পাদদেশে বসে আছেন, আবার কেউ বসে আছেন পার্কের মধ্যে থাকা বেঞ্চে। খোলা জায়গা পেয়ে বাচ্চারা দৌড়ে বেড়াচ্ছে এদিকে–সেদিক। তাদের সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে অভিভাবকদের। তবে কারও মধ্যেই বিরুক্তি ভাব নেই। অনেক দিন পর পার্কে আসার স্মৃতি ছবি করে রাখতে ভুলছেন না কেউই। কেউ তুলছেন সেলফি, আবার কেউবা গ্রুপ ছবি। পার্কে ঢুকেই যেন জুড়িয়ে যাচ্ছে প্রাণ। অনেক দিন মানুষের পদচারণ না থাকায় গাছগুলোও যেন বেশি সবুজে পরিণত হয়েছে। আর মাঠ যেন পুরু ঘাসের বিছানা।

পার্কের পশ্চিম পাশের ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকেই দুই মেয়ের ছবি তোলার জন্য দাঁড় করিয়ে দিলেন আমির সোহেল। বিভিন্ন ভঙ্গিতে কয়েকটি ছবিও তুলে ফেললেন। এ সময় কথা হলে তিনি বলেন, হাদিস পার্ক হলো খুলনাবাসীর সুখ-দুঃখের জায়গা। অনেক দিন পর পার্কে এসে প্রাণটা জুড়িয়ে গেল।

পার্কের লেকে রয়েছে বড় বড় মাছ। পানিতে মুড়ি ফেললে ওই মাছ তা খেতে আসে। পুরো লেকটির চারপাশ লোহার রেলিং দিয়ে ঘেরা। ওই রেলিং ধরে মাছের জন্য মুড়ি ছিটাচ্ছিলেন সালমা হক। আর তা দেখে আনন্দ পাচ্ছিল পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর দুই ছোট ছেলেমেয়ে। শুধু তাঁরাই নন, অনেকেই ছিলেন ওই দলে। সালমা হক বলেন, ‘খুলনা নগরে বাচ্চাদের খেলা করার মতো খোলামেলা ভালো কোনো জায়গা নেই। হাদিস পার্ক বন্ধ থাকায় বাচ্চাদের নিয়ে বাসায় বেশ বেগ পেতে হয়েছে। পার্ক খোলা হয়েছে শুনেই বাচ্চাদের নিয়ে এসেছি। এখানে এসে খুব ভালো লাগছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন