বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয় সূত্র জানায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ছোট-বড় মিলে ১৯টি ফেরি রয়েছে। এর মধ্যে দুই দিন ধরে একটি বড় ও আরেকটি ছোট ফেরি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা মধুমতীতে মেরামতে রয়েছে। বাকি ১৭টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এ ছাড়া শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় গাড়ির চাপ বেড়েছে। ঈদের সময় বাড়তি ঝঞ্ঝাট এড়াতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেকে এখনই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে। এ কারণে পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা যানবাহন ও যাত্রীর ভিড় বাড়ছে।

ঘাট-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, গতকাল শনিবার সকাল ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ফেরিগুলো ২০৬ বার বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে পাটুরিয়ায় পৌঁছেছে। এই সময়ে ৬১৫টি যাত্রীবাহী বাস, ১ হাজার ২৮১টি ট্রাক, ১ হাজার ৮৩১টি ছোট বা ব্যক্তিগত গাড়ি পার করা হয়েছে।

ঘাট এলাকার মহাসড়কে যানবাহনের শৃঙ্খলা বজায় রাখার কাজ করছিলেন ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট আবদুল খালেক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, চালকেরা কেউ কারও কথা শুনতে চান না। যে যাঁর মতো করে বেপরোয়াভাবে চলাচল করায় মাঝেমধ্যে এমন যানজট তৈরি হচ্ছে।

default-image

খুলনা থেকে আসা চালবোঝাই ট্রাকের চালক শহিদুল ইসলাম শনিবার রাত ১১টার দিকে দৌলতদিয়া ইউপি কার্যালয়ের সামনে এসে আটকা পড়েন। তিনি বলেন, প্রায় ১৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো ঘাট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পেছনে পড়ে আছেন। গরমে একটু পরপর পানি পান করছেন। তা-ও অতিষ্ঠ অবস্থা।

শহিদুল ইসলাম আরও বলেন, ঘাট এলাকায় উভয় দিকের গাড়ির চাপ রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে ফেরি ও ঘাটসংকট। মাত্র চারটি ঘাট দিয়ে এত গাড়ি পার করায় এমন যানজট লেগেছে। মাত্র আধা ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে ১৫-১৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

ঝিনাইদহ থেকে আসা একটি দূরপাল্লার একটি বাসের যাত্রী ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমে প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে বাসে বসে আছি। প্রাণ প্রায় ওষ্ঠাগত। জরুরি কাজের জন্য ঢাকায় যাচ্ছি। কখন যে নদী পার হব, তা বলতে পারছি না।’

১৯টি ফেরির মধ্যে দুটি মেরামতে থাকায় এবং ঘাটসংকটের কারণে যানবাহনের চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শিহাব উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৭টি ফেরি চলাচল করছে। আমরা ভোগান্তি ও যানজট কমাতে সর্বক্ষণ চেষ্টা করছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন