বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রোববার রাতে সরেজমিন দেখা যায়, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথের দৌলতদিয়া প্রান্তে ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের বাংলাদেশ হ্যাচারিজ পর্যন্ত দীর্ঘ চার কিলোমিটার এলাকায় ঢাকামুখী যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ পাঁচ শতাধিক যানবাহন।

এ ছাড়া দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় আহ্লাদীপুর এলাকায় রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকায় আটকে রয়েছে আরও ৩০০ পণ্যবাহী যান। সব মিলিয়ে নদী পাড় হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকাগামী আট শতাধিক যানবাহন। এর মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাক ও কার্ভাড ভ্যানের সংখ্যা বেশি।

রোববার দুপুরে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে কথা হয় বরগুনার আমতলী থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকের চালক জামাল হোসেনের সঙ্গে। ঘাটের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গত শুক্রবার দিবাগত রাতে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এসে সিরিয়ালে আটকা পড়ি। সেখান থেকে পরদিন শনিবার বিকেলে ঘাটে আসার পর প্রায় ১৪ ঘণ্টা পার হলেও এখনো ফেরিঘাট থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে পড়ে আছি।’ অর্থাৎ দুই দিন সিরিয়ালে থেকেও ফেরির দেখা পাননি তিনি।

আরেক ট্রাকচালক রিয়াজ উদ্দিন শেখ বলেন, ‘দুই দিন গোয়ালন্দ মোড় আহ্লাদীপুর এলাকায় আটকে ছিলাম। ওখানে খোলা রাস্তায় অমানবিকভাবে দিনরাত পার করতে হয়েছে। এখানে থাকা, খাওয়া ও শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই।’ খেতে হলে তাঁদের গাড়ি ফেলে রেখে প্রায় দু-তিন কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দ মোড়ে এসে খেতে হয়। পরে নিজে গাড়িতে থেকে সহকারীকে সেখানে খাওয়ার জন্য পাঠাতে হয়। এভাবে পালা করে আসা–যাওয়া করতে হয়। এ জন্য বাড়তি রিকশাভাড়া খরচ হচ্ছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শিহাব উদ্দিন বলেন, ঘাট ও ফেরিস্বল্পতা ছাড়াও একটি রো রো ফেরি ডুবে যাওয়া এবং বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে গাড়ির বাড়তি চাপে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যানবাহন ও যাত্রী পারাপার নির্বিঘ্ন রাখতে এই নৌপথে বর্তমানে ১৭টি ফেরি চলাচল করছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন