বিজ্ঞাপন

পাটুরিয়া থেকে আসা ফেরিতেও যানবাহনের সঙ্গে কিছু যাত্রী আসছেন। দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া ফেরিতে অধিকাংশ ছিল যাত্রী ও মোটরসাইকেল। হাতে গোনা কয়েকটি করে পণ্যবাহী গাড়ি ছাড়া তেমন কোনো গাড়ি পার হতে দেখা যায়নি। প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাসও কিছু চোখে পড়ে। বিকল্প সড়কের মাথায় বিভিন্ন যানবাহনে আসা মানুষকে এক ঘাট থেকে আরেক ঘাটে ঘুরতে দেখা যায়।
কুষ্টিয়া থেকে মোটরসাইকেলে স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে নিয়ে খুব সকালে সাভারের উদ্দেশে রওনা করেন শাহিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঈদের ছুটি কাটিয়ে এখন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কর্মস্থলে ছুটছেন। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিকল্প যানবাহনের চিন্তা না করে করোনার মধ্যে নিজের মোটরসাইকেলে করে গ্রামে গিয়েছিলেন, একইভাবে কর্মস্থলের দিকে ছুটছেন।
দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ঘাটে ফেরিতে উঠতে গিয়ে কর্মীদের বাধা পেয়ে ফিরে যাওয়ার সময় শাহিনুল বলেন, গণপরিবহন বন্ধ। কুষ্টিয়া থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে যেতে হচ্ছে সাভার। স্ত্রী, সন্তান সঙ্গে থাকায় কয়েকটি ব্যাগ রয়েছে। এরপর ভ্যাপসা গরম। তারপর যদি ঘাটে এসে এক ঘাট থেকে আরেক ঘাটে ঘুরতে হয় ধুলাবালুর মধ্যে। এটাও এক ধরনের হয়রানি। ঘাটসংশ্লিষ্টদের উচিত ছিল বিকল্প সড়কের মাথায় কোন ঘাট থেকে আগে ফেরি ছাড়বে তা জানানোর ব্যবস্থা করা।

৫ নম্বর ঘাটে অপেক্ষমাণ ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের এক পাশে পরিবারের সবাইকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সাভারের জামগড়ার ব্যবসায়ী রাজবাড়ী শহরের পাপন ইসলাম। আলাপকালে বলেন, জামগড়া এলাকায় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ঈদে পরিবারের সবাই গ্রামে এক সপ্তাহ কাটালেন। আগামীকাল শনিবার থেকে আবার ব্যবসা শুরু করতে হবে। ছুটি শেষে যাঁরা এখনো কর্মস্থলে ফেরেননি, তাঁরা আজ অথবা শনিবার ছুটবেন। দিনের বেলায় অনেক ভিড় হওয়ার আশঙ্কায় ভোরেই রওনা করেছেন।

যাত্রীর চাপ দেখে ফেরিতে যাত্রী পারাপারের দায়িত্বে ঢাকার মতিঝিলের সুবহানা এন্টারপ্রাইজের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি আবদুর রাজ্জাক জানান, স্বাভাবিক সময়ে ফেরিতে যাত্রী পারাপারের ক্ষেত্রে ১০-১৫ জন কালেক্টর থাকেন। ঈদের সময় যাত্রীর চাপ থাকায় তা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়। বৃহস্পতিবার ঘাটে ৩০ জনের মতো কালেক্টর নিয়োজিত ছিলেন। আজ শুক্রবার সকাল থেকে যাত্রীর চাপ বাড়ায় কালেক্টরের সংখ্যা বাড়িয়ে ৭০ জন করা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. ফিরোজ শেখ বলেন, এখন পর্যন্ত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ছোট-বড় মিলে ১৬টি ফেরি চালু রয়েছে। ঈদের ছুটি শেষে মানুষ শুক্রবার শেষবারের মতো ছুটছে। বাকিরা হয়তো আগামীকাল শনিবার ছুটবে। এরপর থেকে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তখন হয়তো প্রয়োজন অনুসারে ফেরি চলবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন