default-image

মূল ভূখণ্ড থেকে ইউনিয়ন তিনটিতে যেতে নৌপথে ৮-১০ কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দিতে হয়। দীর্ঘ এই নদীপথের কারণে যমুনা নদীবেষ্টিত এসব চরে পুলিশের খুব একটা যাতায়াত ছিল না। তবে দিন পাল্টেছে। বিট পুলিশিং কার্যক্রম চালু হওয়ায় বেড়েছে পুলিশের আনাগোনা। আর কমে আসছে সামাজিকসহ ছোটখাটো বিভিন্ন অপরাধ। কমেছে মামলাও।

বাঘুটিয়া, বাচামারা ও চরকাটারী নামের এই ইউনিয়ন তিনটি পড়েছে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায়। প্রতিবছরই যমুনার ভাঙনে এসব চরের বাসিন্দাদের জমিজমা ও বসতবাড়ি নদীতে ভেঙে যায়। আবার শুষ্ক মৌসুমে চর জেগে ওঠে। এতে জমিসংক্রান্ত বিরোধ এসব এলাকায় অন্যতম সমস্যা। এ ছাড়া বাল্যবিবাহ, মাদকসহ অন্যান্য সামাজিক অপরাধও ঘটে এসব এলাকায়।

বাচামারা ইউনিয়নের চর ভারেঙ্গা গ্রামের মৃত শের আলীর ১৭৪ শতক জমি নদীতে ভেঙে যায়। পরবর্তী সময়ে এই জমি জেগে উঠলে শের আলীর ছেলে মাসুদ রানা ফসল আবাদ শুরু করেন। তবে পাশের বাঘুটিয়া গ্রামের তোতা মিয়া ওই জমি দখলের চেষ্টা করেন। সম্প্রতি জমির ফসল তুলে নেওয়ার চেষ্টাও হয়। বিষয়টি জানার পর বাচামারা ইউনিয়নের বিট পুলিশিং কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসেন। সেখানেই বিরোধের মীমাংসা হয়ে যায়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, চার-পাঁচ মাস আগে থানায় প্রতি মাসে গড়ে মামলার সংখ্যা ছিল ১২। তবে বিট পুলিশিং কার্যক্রমের কারণে মামলার সংখ্যা কমে এসেছে। চলতি মাসে এ পর্যন্ত (১৩ ফেব্রুয়ারি) মাত্র একটি মামলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার বেলা তিনটায় বাঘুটিয়া ইউনিয়নের পারুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেল, বিট পুলিশিং কার্যক্রম চলছে। এ সময় সেখানে দেখা যায়, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে বেশ কয়েকজন দলিলাদি নিয়ে এসেছেন। সেখানে ওসি রেজাউল করিম, পরিদর্শক (তদন্ত) হাসমত উল্লাহ ও বিট পুলিশিং কর্মকর্তা এএসআই আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশি সেবাকে চরের জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে যমুনার মধ্যবর্তী তিনটি ইউনিয়নে বিট পুলিশিং কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে অপরাধ কমিয়ে আনতে জনগণের সঙ্গে পুলিশের নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে।
রিফাত রহমান, পুলিশ সুপার, মানিকগঞ্জ

জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে সেখানে আসেন বাদী আবদুর রহমান ও বিবাদী আবদুল বাতেন। জমির ওয়ারিশ নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ। উভয় পক্ষের জমির দলিলাদি ও কাগজাদি পর্যালোচনা করে পুলিশ কর্মকর্তা হাসমত উল্লাহর মধ্যস্থতায় এই বিরোধ নিষ্পত্তি হয়।

জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিবালয়, দৌলতপুর ও ঘিওর সার্কেল) তানিয়া আহমেদ বলেন, পুলিশিং সেবাকে আরও গতিশীল এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর জন্য প্রায় চার মাস আগে এসব ইউনিয়নে বিট পুলিশিং কার্যক্রম শুরু হয়। এতে সুফল পেতে শুরু করেছে এসব ইউনিয়নের দুর্গম চরবাসী।

জেলা পুলিশ প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রতিটি বিট এলাকার জনগণকে নিয়ে মাসে দুবার সভা করা হবে। সভায় স্থানীয় লোকজনের পরামর্শ গ্রহণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকার মামলার তদন্ত, আসামি গ্রেপ্তার, পরোয়ানা তামিল, মাদক, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ যাবতীয় কাজে মুখ্য ভূমিকা রাখবেন বিট পুলিশের সদস্যরা।

পুলিশ সুপার রিফাত রহমান বলেন, দৌলতপুরে দুর্গম চরবাসীদের যমুনা পাড়ি দিয়ে থানায় আসতে অর্থ খরচসহ নানা সমস্যায় পড়তে হতো। পুলিশি সেবাকে চরের জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে যমুনার মধ্যবর্তী তিনটি ইউনিয়নে বিট পুলিশিং কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে অপরাধ কমিয়ে আনতে জনগণের সঙ্গে পুলিশের নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি মাদক ও বাল্যবিবাহসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধ কমে আসছে। এলাকায় থেকেই পুলিশের সেবা পেতে শুরু করেছে ওই সব চরের মানুষ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন