সরকারকে উদ্দেশ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘দেশে সাত শতাধিক সংবাদকর্মীকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটক করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দিয়েছেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এবারের রমজান মাস সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিত্যপণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। খেটে খাওয়া মানুষ, শ্রমিক ভাইয়েরা, প্রান্তিক কৃষক ভাইয়েরা রমজানে কষ্ট করে অন্নের জোগান দিচ্ছেন। এক যুগ ধরে ভয়াবহ কর্তৃত্ববাদী, ফ্যাসিবাদী একটা সরকার দেশের মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। রমজানে আমরা সংযম ও ত্যাগ শিকার করছি। সামনে ঈদ। ঈদ আমাদের জন্য খুশির বার্তা নিয়ে আসবে।’

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, ‘আপনারা দলকে সুসংগঠিত করবেন। দলের জন্য কাজ করবেন। নিজেদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব, কোন্দল না করে আগামী দিনগুলোতে যখন ফ্যাসিবাদী সরকারের সঙ্গে লড়াই করতে হবে, তখন যেন শক্তিশালী সংগঠন নিয়ে লড়াই করতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করবেন।’

স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই দাবি করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আজ আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা নেই। মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পাবে তার নিশ্চয়তা নেই। নিয়মনীতির মধ্য দিয়ে সন্তানেরা শিক্ষিত হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অর্থনীতিতে লুটপাট চলছে। লাখ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, বর্গিরা যেভাবে এসেছিল, আওয়ামী লীগও সেভাবে লুট করে নিয়ে যেতে ক্ষমতায় এসেছে। এখন রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। আমরা এ অবস্থায় দেশকে ছেড়ে দিতে পারি না। আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে।’

দল পুনর্গঠনে যোগ্যদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে দল পুনর্গঠনের কাজ চলছে। দল পুনর্গঠন করতে গিয়ে দলে বিভক্তি করবেন না। যাঁরা যোগ্য তাঁদের নেতৃত্বে নিয়ে আসেন। অযোগ্যদের নেতৃত্বে আনবেন না, তাহলে দলের ক্ষতি হবে।

ইফতার মাহফিলে জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিন, সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, নুর করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন