বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গতকাল শনিবার সদর উপজেলার একাটুনা ও আখাইলকুরা ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, একাটুনা, কচুয়া, বরকাপন, বুড়িকোনা, বিরাইমাবাদ, রসুলপুর, রায়পুর, বানেশ্রী, পাড়াশিমইল, উলুয়াইলসহ বিভিন্ন গ্রামে বিস্তীর্ণ আমন ধানের খেত। এখনো ধানগাছে থোড় বের হয়নি। গাছ সবুজ থাকার কথা। কিন্তু দূর থেকে মনে হচ্ছে অনেক জমির ধান পেকে গেছে। কাছে গেলে দেখা যায় পাতা হলুদ হয়ে গেছে।

থোড় বাইর হওয়ার আগে পাতা হলুদ হওয়ায় আমাদের বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে। অর্ধেক ফসলও পাব না।
মুহিব খান, কৃষক, রসুলপুর, আখাইলকুরা ইউনিয়ন

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাছের সবুজ পাতা হলুদ বা লাল হয়ে যাচ্ছে। কিছু পাতা সাদা হয়ে পচে ঝরে যাচ্ছে। অনেকে নিজেদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, কেউ কৃষি বিভাগের পরামর্শমতো পটাশসহ বিভিন্ন ধরনের সার স্প্রে করছেন। কেউ কেউ দু-তিনবারও স্প্রে করেছেন। কিন্তু সুফল পাচ্ছেন না।

আখাইলকুরা ইউনিয়নের রসুলপুরের মুহিব খান বলেন, ‘গাছ হলুদ হয়ে যাচ্ছে। দূর থেকে মনে হয় ধান পেকে গেছে। অথচ এখনো ধানের থোড়ই বাইর হয়নি। ধান পাকতে আরও এক থেকে দেড় মাস সময় লাগবে। থোড় বাইর হওয়ার আগে পাতা হলুদ হওয়ায় আমাদের বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে। অর্ধেক ফসলও পাব না।’ তিনি জানান, তাঁর প্রায় চার বিঘা জমির ধানগাছের পাতা হলুদ হয়ে গেছে।

রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের ভূমিউড়া গ্রামের আক্কাছ মিয়া বলেন, ‘আমি তিনবার সার ও ওষুধ দিছি। কোনো সমাধান পাইছি না।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, কার্তিকের মাঝামাঝি থেকে পাকা ধান কাটা শুরু হবে। তবে প্রতিবছর এ রকম কিছু জমির ধানগাছের পাতা লাল বা হলুদ হয়ে থাকে। এবার একটু বেশি হয়েছে। সময়মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় ধানগাছের খাদ্যঘাটতি দেখা দিয়েছে। ধানগাছ পানির অভাবে পটাশিয়াম, সালফার গ্রহণ করতে পারেনি। এতে পাতার রং বদলে হলুদ হয়ে যাচ্ছে। কোনো রোগের কারণে এ রকম হচ্ছে না। মাটিতে উচ্চমাত্রায় পটাশ ও ফসফরাস এবং স্বল্পমাত্রায় সালফারের ঘাটতি রয়েছে।

পাতার এ রং বদল একটা সতর্কসংকেত। শুধু বৃষ্টিনির্ভর হওয়া যাবে না। সম্পূরক সেচব্যবস্থা, সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে।
কাজী লুৎফুল বারী, উপপরিচালক, মৌলভীবাজার

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের উপপরিচালক কাজী লুৎফুল বারী বলেন, এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ দল মাঠ পরিদর্শন করেছে। তাঁরা কৃষকদের কুইক পটাশ, থিয়োবিট সার স্প্রে করতে বলছেন। এতে তিন-চার দিনের মধ্যে পাতা সবুজ হয়ে যাবে। পাতার এ রং বদল ভবিষ্যতের জন্য একটা সতর্কসংকেত। জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। শুধু বৃষ্টিনির্ভর হওয়া যাবে না। সম্পূরক সেচব্যবস্থা, সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন