default-image

দিনাজপুরে গুদামঘরে অতিরিক্ত ধান–চাল মজুত রাখার অভিযোগে মিলারদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলমান রয়েছে। রোববার বিকেলে সদর উপজেলার চেহেলগাজি ইউনিয়নের বড়ইল এলাকায় দুটি অটো রাইস মিলের মালিকসহ তিনজনকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার রহমান এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

বাজারে চালের দাম হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত বুধবার সরকার চালের মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। পরের দিন থেকে মিলমালিকদের গুদামঘরে মজুতের পরিমাণ দেখতে অভিযান শুরু করে জেলা খাদ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসন। সেদিনই দুটি মিলমালিককে অতিরিক্ত ধান মজুতের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে সদর উপজেলার বড়ইল এলাকার বয়রা অটো রাইস মিলের গুদামঘরে ৮০০ মেট্রিক টন ধান মজুত পাওয়া যায়। তবে মিলমালিক দাবি করেন, এই ধান তাঁর একার নয়। তাঁর গুদামঘরে একজন ব্যবসায়ীও ধান কিনে মজুত করে রেখেছেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মিলের স্বত্বাধিকারী অভিজিৎ দেকে ৫০ হাজার টাকা এবং তাঁর গুদামঘরে রাখা ধানের মালিক ত্রিলোচন কুমারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে একই এলাকার হানুফা অটো রাইস মিলে ১ হাজার ৭৮০ মেট্রিক টন আতপ চাল মজুত পাওয়া যায়। প্রায় ৫-৬ মাসেরও অধিক সময় ধরে চাল মজুত করে রাখার অভিযোগে মিলমালিক মাহমুদুজ্জামানকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে মিলমালিক দাবি করেছেন, বর্তমানে আতপ চালের চাহিদা কম থাকায় বিক্রি করতে পারছেন না তিনি। পাইকাররা যে দাম বলছেন, তাতে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার রহমান বলেন, বিধি অনুযায়ী কোনো মিলমালিকের এক মাসের অধিক সময় ধান–চাল মজুত রাখার বিধান নেই। সেখানে সরকার চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চালের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু তারপরও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, মিলমালিক অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় ধান-চাল মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন।

রোববারের অভিযানে দুটি মিলমালিককে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মজুতদারদের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩২ হাজার ৭২ মেট্রিক টন। সেখানে অর্জন হয়েছে ৯ হাজার ১৫৩ মেট্রিক টন। অন্যদিকে সেদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯১ হাজার ১২৩ মেট্রিক টন। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে ৬৬ হাজার ৬৮৩ মেট্রিক টন। আর আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২ হাজার ৮৭০ মেট্রিক টন। অর্জন হয়েছে ৯ হাজার ১২২ মেট্রিক টন।

বয়রা অটো রাইস মিলের সঙ্গে খাদ্য বিভাগের চুক্তি হয়েছিল ৩৮৭ দশমিক ৮১০ মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল সরবরাহের। যার বিপরীতে মিলটি থেকে সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ২২ টন, যা বরাদ্দের মাত্র ৫ শতাংশ। তবে হানুফা অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ৯৩ টন আতপ চাল সরবরাহ করেছেন।

দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আশ্রাফুজ্জামান বলেন, যেসব মিলমালিক সরকারের আইন লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত মজুত করে চালের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন