বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আওলাদ হোসেন ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য, গতকাল সন্ধ্যায় আওলাদ হোসেন কয়েকটি মোটরসাইকেলে সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে বানেশ্বর পশ্চিমপাড়া মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে যান। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর তাঁরা আওয়ামী লীগ–সমর্থিত প্রার্থী মো. আজহার আলীর লোকজনকে তিনি পথরোধ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তাঁরা উল্টো দিকে ফিরে গিয়ে একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নেন।

কিছুক্ষণ পর আজহারের সমর্থকেরা লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। এতে আওলাদের হাতের কিছু অংশ কেটে গেছে এবং তাঁর ছোট ভাই মো. কামরুজ্জামানের মাথা ফেটে গেছে। এ ঘটনায় আহত ৮ জনকে ধামরাই ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আওলাদ হোসেন অভিযোগ করেন, হামলার পর হাসপাতালে যাওয়ার আগে তিনি তাঁর সমর্থকদের নিয়ে ধামরাই থানায় মামলা করতে যান। তবে সেখানে পুলিশ মামলা না নিয়ে তাঁদের থানা থেকে চলে যেতে বলা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আওলাদ হোসেন পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী নিয়ে থানায় এসে স্লোগানসহ বিক্ষোভ শুরু করেন। এটা কাম্য নয়। তিনি আমার কাছে সরাসরি এসে বিচার চাইতে পারতেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আমি তাঁদের থানার বাইরে যেতে বলি এবং চার–পাঁচজনকে এসে তাঁদের অভিযোগ জানাতে বলেছি।’

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে আজহার আলী প্রথম আলোকে বলেন, ভোট না দিলে আওলাদ হোসেন তাঁর সমর্থকদের মেরে ফেলার হুমকি দেন। এতে তাঁর সমর্থকেরা ক্ষিপ্ত হন। এতে একটু হাতাহাতি হয়েছে মাত্র। এরপর আওলাদ ও তাঁর সমর্থকেরা তাঁর নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। আওলাদ উপজেলা ও থানায় পাঁচ শতাধিক কর্মী নিয়ে ঘেরাও করেছিলেন। এ সময় সেখানে তিনি ছিলেন। পুলিশ এসে পরে তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করেছে।

বালিয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর ওপর হামলা

এদিকে গতকাল সন্ধ্যা ছয়টায় বালিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. মজিবর রহমানের সর্মথকেরা স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মান্নানের গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে প্রতীক বরাদ্দের পর স্থানীয় বালিয়া বাজারে দুটি মাইক্রোবাস ও একটি ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে আবদুল মান্নান গণসংযোগ করতে যান। এ সময় সেখানে স্লোগান দিয়ে লাঠি নিয়ে মজিবর রহমানের সমর্থকেরা উপস্থিত হন। তাঁদের মোটরসাইকেলের সঙ্গে আবদুল মান্নানের গাড়ির ধাক্কা লেগেছে অভিযোগ তুলে তাঁরা লাঠি দিয়ে একটি মাইক্রোবাসে ভাঙচুর করেন। এতে ওই গাড়ির সামনের ও পেছনের কাচ ভেঙে যায়।

ওই গাড়ির চালক আবদুর রহিম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর গাড়ি ভাড়া করে আবদুল মান্নান লোকজন নিয়ে বাজারে গিয়েছিলেন। রাস্তার পাশে পার্কিং করা গাড়িবিরোধী পক্ষের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিয়েছে বলেই ভাঙচুর শুরু করেন। বাধা দিতে গেলে তিনি নিজেও মারধরের শিকার হন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মজিবর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার সমর্থকেরা মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করছিলেন। এ সময় মান্নানের একটি গাড়ি আড়াআড়িভাবে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করলে তাঁদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। ভাঙচুর বা মারধরের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত করে পুলিশ যেন প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে, সেটির দাবি জানাচ্ছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মোহাম্মদ হাই প্রথম আলোকে বলেন, দুই ঘটনায় উভয় পক্ষের লোকজনই তাঁকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে তিনি তাঁদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন। এদিকে থানা–পুলিশকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুই ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের আটকের চেষ্টা চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন