বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ শনিবার সকালে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ঘাটে পন্টুনে বাঁধা রয়েছে নয়টি এমভি (বড়) লঞ্চ। লঞ্চে ইচ্ছেমতো যাত্রী তোলা হচ্ছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌপথে ছোট-বড় ৩৩টি লঞ্চ চলাচল করে। ২৫টি এমভি ও ৮টি এমএল (ছোট) লঞ্চের মধ্যে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ১৭ থেকে ২০টি লঞ্চ চলাচল করছে।

দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া। প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাট দিয়ে হাজার হাজার যাত্রী পারাপার হন। এসব রুটে লঞ্চ চলাচল পরিচালনা করছে আরিচা লঞ্চ মালিক সমিতি। বেশির ভাগ লঞ্চের বয়স ৩৫ থেকে ৪০ বছর। কয়েকটি ৪০ বছরের বেশি পুরোনো। ত্রুটি দেখা দিলে স্থানীয়ভাবে মেরামত ও রং করে পুনরায় চালু করা হয়। অনেক লঞ্চের ইঞ্জিনসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিস জোড়াতালি দিয়ে চলছে।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে পাটুরিয়া থেকে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ যাত্রী নিয়ে দৌলতদিয়া পৌঁছে অনিকা-২ নামের এক লঞ্চ। ঘাটে ভেড়ার সময় পন্টুনে থাকা দুটি লঞ্চের সঙ্গে কয়েকবার আঘাত করে। এ নিয়ে স্টাফদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পেছনে ফিরে ঘাটে ভিড়তে গিয়ে চরে আটকে যায়।

কুষ্টিয়াগামী লঞ্চের যাত্রী ইকবাল হোসেন ও নার্গিস পারভীন বলেন, যেভাবে কয়েকটি লঞ্চকে বারবার আঘাত করছিল এবং চরে আটকে যাচ্ছিল, তাতে অনেকের নদীতে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এতেই বোঝা যায়, অদক্ষ চালক দিয়ে এ রুটের লঞ্চ চালানো হচ্ছে। এতে যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

লঞ্চ অনিকা-২–এর মাস্টার সুলতান শেখ বলেন, ৩৩ বছরের চাকরিজীবনে ১৪ বছর ধরে মাস্টারের দায়িত্ব পালন করছেন। লঞ্চকে আঘাত করা এবং চরে আটকে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পন্টুনে জায়গা না থাকায় ভিড়তে পারছিলেন না। যাত্রীরা সামনে আসায় পাখায় পানি পাচ্ছিলেন না বলে ব্যালেন্স রাখা যাচ্ছিল না। ধারণক্ষমতা ১০৮ জন লেখা থাকলেও দ্বিগুণ যাত্রী আনার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, যাত্রীরা জোর করে উঠেছেন বলে ২০০ জনের মতো যাত্রী হয়েছে।

ঘাটে ভেড়া এমভি ‘বিদ্যুৎ’–এর প্রধান মাস্টার ছুটিতে। চালাচ্ছিলেন সুকানি আবুল হোসেন। অনিকা-২ লঞ্চটি বারবার আঘাত করা ও চরে ঠেকানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান মাস্টারদের তেমন প্রশিক্ষণ নেই। টাকাপয়সা হলে সার্টিফিকেট কেনা যায়। যে কারণে বারবার আঘাত করছিল।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) দৌলতদিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক পরিদর্শক আফতাব হোসেন বলেন, এসব রুটের বেশির ভাগ লঞ্চের বয়স ৩৫ থেকে ৪০ বছরের বেশি। ডিজিশিপিং থেকে সার্ভের পর ফিটনেস সার্টিফিকেট দিয়ে থাকে। ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো লঞ্চ চলার সুযোগ নেই। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করলে সে ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন বলে দাবি করেন এই কর্মকর্তা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন