বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ একসময় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সঙ্গে যুক্ত ছিল। জেলা শহরের দক্ষিণে হওয়ায় এটি দক্ষিণ সুনামগঞ্জ এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। সদরের ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে আটটি ইউনিয়ন ছিল দক্ষিণ সুনামগঞ্জে। একপর্যায়ে এই আটটি ইউনিয়ন নিয়ে দক্ষিণ সুনামগঞ্জকে পৃথক উপজেলা গঠনের দাবি ওঠে। এরপর ২০০৬ সালের ২৭ জুলাই দক্ষিণ সুনামগঞ্জকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করে সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশিত হয়। ২০০৮ সালের ১৮ মে থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়।

শুরুতে জেলা শহরের পুরোনো কালেক্টরেট ভবনে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু হয়। ২০০৯ সালে এখানে প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হয়। প্রায় পাঁচ বছর এখানে কার্যক্রম চলে। পরে ২০১২ সালে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার শান্তিগঞ্জ এলাকায় প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের পর সেখানে কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়। শান্তিগঞ্জ এলাকাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া পরিষদের অন্যান্য দপ্তরের ভবন নির্মাণের কাজও এখানেই শুরু হয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের বাড়িও এই উপজেলায়। ২০১৯ সালের শুরুতে উপজেলার রাজনৈতিক মহল, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ এই উপজেলার নতুন নামকরণের বিষয়টি পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। একই দাবিতে তাঁরা বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেছেন।

পরে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) থেকে উপজেলার নাম শান্তিগঞ্জ করার পক্ষে মতও দেওয়া হয়। একই বছরের ১৬ মে উপজেলার মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় উপজেলার নাম পরিবর্তন করে শান্তিগঞ্জ রাখার পক্ষে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়। এরপর সিদ্ধান্তের বিষয়টি পরিকল্পনামন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।

এই ফাইলটি দীর্ঘদিন চাপা পড়ে ছিল। এ নিয়ে আমি বিভিন্ন জায়গায় কথা বলেছি। শেষ পর্যন্ত মধ্যনগর উপজেলা হয়েছে, এতে মধ্যনগর এলাকার মানুষের সঙ্গে আমরাও খুশি।
এম এ মান্নান, পরিকল্পনামন্ত্রী

পরিকল্পনামন্ত্রী প্রথম আলোকে বলেন, সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ আর সিলেটের দক্ষিণ সুরমা—এই দুই নাম নিয়ে অনেক সময় জটিলতার সৃষ্টি হতো। এক উপজেলার বরাদ্দ-চিঠিপত্র চলে যেত আরেক উপজেলায়। প্রশাসনের কর্মকর্তারাও অনেক সময় সমস্যায় পড়তেন। এখন দক্ষিণ সুনামগঞ্জের নাম শান্তিগঞ্জ হওয়ায় আর এই ঝামেলায় পড়তে হবে না বলে আশা করেন তিনি।

মধ্যনগর উপজেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই ফাইলটি দীর্ঘদিন চাপা পড়ে ছিল। এ নিয়ে আমি বিভিন্ন জায়গায় কথা বলেছি। শেষ পর্যন্ত মধ্যনগর উপজেলা হয়েছে, এতে মধ্যনগর এলাকার মানুষের সঙ্গে আমরাও খুশি।’

৩৪ বছর পর হাওরবাসীর স্বপ্নপূরণ

এদিকে মধ্যনগর থানাকে উপজেলা হিসেবে উন্নীত করার খবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান ও স্থানীয় সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে রতনকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়ে আজ বিকেল তিনটার দিকে উপজেলার মধ্যনগর বাজারে আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন নূরী।

১৯৭৪ সালে সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার মধ্যনগর, চামরদানী, বংশীকুণ্ডা উত্তর ও বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ—এই চারটি ইউনিয়ন নিয়ে মধ্যনগর থানা গঠিত হয়। ১৯৮৭ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে মধ্যনগর থানাকে উপজেলায় উন্নীত করার জন্য প্রাথমিকভাবে কার্যক্রম শুরু করা হয়। এরপর এই দাবিতে বিভিন্ন সময়ে মধ্যনগর বাজারে অনশন, মানববন্ধন ও হরতালের মতো কর্মসূচিও পালন করা হয়।

২০০১ সালের ৯মে নিকার ৮৬তম বৈঠকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মধ্যনগর থানাকে উপজেলায় রূপান্তরিত করার জন্য অনুমোদন দেন। কিন্তু ২০০৩ সালের ১৮ জানুয়ারি নিকার ৮৮তম বৈঠকের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই অনুমোদনটি বাতিল করে দেন। এ অবস্থায় মধ্যনগরের চার ইউনিয়নের বাসিন্দাদের স্বপ্ন থমকে যায়।

এরপর ২০১৭ সালের ২৯ নভেম্বর অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ তালুকদারকে সভাপতি ও সঞ্জিত তালুকদার টিটোকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট মধ্যনগর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদ গঠন করা হয়। এরপর এলাকাবাসীর সহায়তায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী বরাবর এ নিয়ে আবারও আবেদন করা হয়। অবশেষে আজ দীর্ঘ ৩৪ বছরের এই প্রতীক্ষার অবসান ঘটলো।

নিকার ৮৬তম বৈঠকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মধ্যনগর থানাকে উপজেলায় রূপান্তরিত করার জন্য অনুমোদন দেন। কিন্তু ২০০৩ সালের ১৮ জানুয়ারি নিকার ৮৮তম বৈঠকের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই অনুমোদনটি বাতিল করে দেন। এ অবস্থায় মধ্যনগরের চার ইউনিয়নের বাসিন্দাদের স্বপ্ন থমকে যায়।

সুনামগঞ্জ ১ (ধরমপাশা, জামালগঞ্জ ও তাহিরপুর) আসনের সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মধ্যনগর থানাকে নিকার সভায় উপজেলা হিসেবে অনুমোদন দেওয়ায় আমরা গর্বিত ও আনন্দিত। হাওরবাসীকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুবই ভালোবাসেন। হাওরবাসীর দীর্ঘবছরের স্বপ্ন আজ প্রধানমন্ত্রী পূরণ করেছেন। এটি শুধু আমার নয়, এখানকার হাওরবাসীর জন্য এই দিনটি জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে।’

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চারটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উপজেলার মধ্যনগর থানার আয়তন ২২১বর্গ কিলোমিটার। ২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী জনসংখ্যা রয়েছে ৯২ হাজার ৭৪৫ জন। শিক্ষার হার শতকরা ২৯ দশমিক ০২ শতাংশ। এখানে ৮৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১০টি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ১টি কলেজ রয়েছে। এ ছাড়া মোট কৃষি জমির পরিমান ১৫ হাজার ৬০০ হেক্টর।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন