default-image

১০ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রায় ৬৭টি ট্রেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ–সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রচার হয়েছে কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে।

হাওর এক্সপ্রেস ও ভাওয়াল এক্সপ্রেসের সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে করে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন ঢাকার সঙ্গে ময়মনসিংহ হয়ে নেত্রকোনা ও জামালপুরে চলাচলকারী যাত্রীরা। তাই এই দুটি ট্রেনের ক্ষেত্রে আরও যাত্রীবান্ধব সময়সূচি নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, আন্তনগর হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বুধবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন ঢাকা থেকে রাত ১১টা ৫০ মিনিটে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে আসে এবং ভাওয়াল এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রতিদিন রাত ৯টা ২০ মিনিটে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ে। এই সময়সূচি দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসায় যাত্রীরা এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁরা সারা দিনের কাজ শেষ করে এই ট্রেন দুটিতে করে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাতায়াত করেন।

কিন্তু নতুন করে এই ট্রেন দুটির সময়সূচি পরিবর্তন করায় নিয়মিত যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁরা সবাই বলছেন, পরিবর্তিত সময়সূচি কোনোভাবেই যাত্রীবান্ধব নয় এবং এতে করে অনেকেই সময়মতো বাড়ি ফিরতে পারবেন না। তাঁরা অন্য দুর্ভোগের আশঙ্কাও করছেন। যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ট্রেন দুটির সময়সূচি আগের মতো বহাল রাখার দাবি তাঁদের।

চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পূর্ব) কর্তৃক ঘোষিত পরিবর্তিত ট্রেনের সময়সূচিসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, নতুন সময়সূচি অনুযায়ী আন্তনগর হাওর এক্সপ্রেস আগের চেয়ে ১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট এগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে করে ট্রেনটি রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকা ছাড়বে। আর ভাওয়াল এক্সপ্রেসকেও ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট এগিয়ে দেওয়া হয়েছে, এটি প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাবে।

এই সময়সূচি মেনে ট্রেন চলাচল করলে অনেক যাত্রীই ট্রেন ধরতে পারা নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন। কেননা, অনেকেই গফরগাঁও ও ময়মনসিংহ থেকে প্রতিদিন যাতায়াত করেন। তা ছাড়া অনেকেই অন্যান্য শহর থেকে ঢাকায় এসে রাতের এই ট্রেন দুটিতে করে ময়মনসিংহ বিভাগের জেলাগুলোতে যাতায়াত করেন। তাই পরিবর্তিত সময়সূচিতে ট্রেন ধরতে পারাটা কঠিন হবে বলেই মনে করছেন যাত্রীরা।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী আরমানুল হক জানান, তিনি নিয়মিত কাজ শেষে ভাওয়াল এক্সপ্রেসে করে গফরগাঁও যাতায়াত করেন। কিন্তু নতুন সময়সূচিতে আগের মতো যাতায়াত করা সম্ভব হবে না। বাড়ি ফিরতে আরও অতিরিক্ত দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে অন্য ট্রেনের জন্য।

আরেক যাত্রী এমদাদ হোসেন বলেন, বুধবার হাওর এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় কেউ যদি সন্ধ্যার পর ভাওয়াল এক্সপ্রেসে না উঠতে পারেন, তাহলে তাঁর সারা রাত ঢাকাতেই কাটাতে হবে। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে রাত ৯টায় বাসের শেষ ট্রিপ। তিনি বলেন, হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনটি আপ–ডাউন ট্রিপ শেষ করে ঢাকায় ফিরে ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম পায় প্রতিদিন। তাই এই ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ রাখার কোনো মানেই হয় না।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ স্টেশন সুপার জহুরুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে এই সময়সূচি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ অনেক দিক ভেবেই নতুন সময়সূচি কার্যকরের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে যাত্রীদের লিখিত আপত্তি থাকলে সেটি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন