বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এই নানা পদের নাড়ু তৈরি ও বিক্রি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন দিনাজপুরের বালুবাড়ি এলাকার নন্দিতা সাহা। প্রায় দুই বছর ধরে তিনি নাড়ুর ব্যবসা করছেন। বিভিন্ন উৎসব, বিশেষত দুর্গাপূজায় যেন দম ফেলার সময় নেই তাঁর। যেহেতু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা-পার্বণ ও খাবারের তালিকায় নাড়ুর সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ। তাই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছেন নন্দিতা। মাসে ৫০-৫৫ কেজি বিভিন্ন পদের নাড়ু বিক্রি করছেন তিনি। এবার দুর্গাপূজায় ইতিমধ্যে ২৮০ কেজি নাড়ুর বাড়তি অর্ডারও পেয়েছেন।

নন্দিতা সাহা পেশায় একজন রেডিওগ্রাফার। ২০১৪ সালে রংপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি থেকে ডিপ্লোমা পাস করে দিনাজপুরের স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে কাজ করেন। চাকরির পাশাপাশি নাড়ু বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন তিনি। গতকাল বুধবার সকালে বালুবাড়ি এলাকায় নন্দিতার বাসায় গিয়ে দেখা যায়, ঘরের মেঝেতে ইনডাকশনের চুলায় ঝুড়ি ভাজছেন নন্দিতা। পাশে বসে হাতের তালুতে গোলাকার নাড়ু বানাচ্ছেন নন্দিতার মা ও বৌদি। পাশের ঘরে নাড়ু প্যাকেটজাত করতে ব্যস্ত নন্দিতার ভাই পলাশ।

আলাপচারিতায় নন্দিতা বলেন, দুই বছর আগে মায়ের তৈরি নাড়ুর ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়েছিলেন তিনি। ছবি দেখে অনেকে নাড়ুর প্রশংসা করেন। নাড়ু তৈরির খরচ দিলে সরবরাহ করবেন কি না, জানতে চান। সেই থেকে শুরু। তারপর থেকে প্রতি মাসে ১০-১২ কেজি নাড়ু বিক্রি শুরু হয় তাঁর। এ বছর জানুয়ারি মাসে ‘দিনাজপুরের উদ্যোক্তাবর্গ’ নামের ফেসবুকভিত্তিক অনলাইন গ্রুপে যুক্ত হন। গ্রুপটির বর্তমান সদস্যসংখ্যা ৩৫ হাজারেরও অধিক। সেই গ্রুপেও নাড়ুর অর্ডার আসতে থাকে। এখন প্রতি মাসে ৫০-৫৫ কেজি নাড়ু বিক্রি হয় তাঁর। চাকরির পাশাপাশি মাসে আয় করছেন ১০-১২ হাজার টাকা।

নন্দিতা প্রতি কেজি নারকেলের নাড়ু (গুড়ের তৈরি) বিক্রি করছেন ৬০০ টাকায, নারকেলের নাড়ু (চিনির তৈরি) ৭০০ টাকা, ঝুড়ির নাড়ু ৬০০ টাকা, তিলের নাড়ু ৮০০ টাকা, মুড়ির মোয়া ৫০০ টাকা, চিড়ার মোয়া ৬০০ টাকা, ক্ষীরের সন্দেশ ৮০০ টাকা এবং মুগের পাঁপড় ৫০০ টাকা ও ছোট ছোট নিমকি ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন।

নন্দিতা বলেন, ‘গ্রাহকের কাছে প্যাকেট পাঠানোর সময় সেটির ছবি তুলে উদ্যোক্তা গ্রুপে পোস্ট করতাম। এতে অর্ডার পেতাম বেশি করে। বাবার সীমিত আয়। চাকরির পাশাপাশি এই নাড়ু বিক্রির টাকা সংসারেরও কাজে লাগে। ছোট ভাইকেও পড়াশোনার খরচ দিতে পারছি।’

নন্দিতার মা প্রীতি সাহা বলেন, ‘বাড়িতে খাওয়ার জন্যই প্রায়ই নাড়ু বানাতাম। এই নাড়ুর ছবি ফেসবুকে দেওয়াতে মেয়েকে বকাও দিয়েছি। কিন্তু এখন দিনের অধিকাংশ সময় এই নাড়ু তৈরির কাজেই ব্যয় হয়। ভালোই লাগে, মেয়ে সংসারে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন