নিহত আতিকুর মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলিপুর গ্রামের মৃত আবু মিয়ার ছেলে। তিনি সাত-আট বছর ধরে নবীনগরে থাকেন। গত পাঁচ থেকে ছয় বছর বাঘাউড়া গ্রামের আবুল হাসানের সেমিপাকা টিনের ঘরে ভাড়ায় বসবাস করছিলেন তিনি। কমলগঞ্জের আলিপুর গ্রামের সোহেল মিয়া (২৫) তাঁর ফার্নিচারের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন এবং আতিকুরের সঙ্গে একই বাসায় থাকতেন। এ ঘটনায় সোহেলসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাঘাউড়া গ্রামের আবুল হাসানের বাড়ির সামনে একটি ফার্নিচার দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন আতিকুর। পরে ওই দোকানের মালিক প্রবাসে চলে যাওয়ার পর মালিকের কাছ থেকে দোকানটি নিয়ে নেন আতিকুর। আজ ভোরে সাহ্‌রি খাওয়ার পর ফজরের নামাজের জন্য দরজা খোলেন আতিকুর। দরজা খুলতে না খুলতেই কে বা কারা তাঁকে আঘাত করে পালিয়ে যায়। আতিকুরের দোকানের কর্মচারী সোহেল এগিয়ে গিয়ে চিৎকার শুরু করেন। তখন প্রতিবেশী রিনা বেগম, সাইফুল ইসলাম ও মো. হাবিবুল্লাহ ঘটনাস্থলে গিয়ে আতিকুরকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁকে উদ্ধার করে ঘরে নেওয়ার পরপরই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) সফিকুল ইসলাম বলেন, ফার্নিচার দোকানের কর্মচারী সোহেল জানিয়েছেন, একটি শব্দ শুনে শর্টসার্কিট হয়েছে মনে করে তিনি বাইরে যান। কিন্তু আতিকুরের বুক থেকে রক্ত ঝরতে দেখে তাঁকে গুলি করা হয়েছে বলে তিনি অনুমান করেন। এ ঘটনায় এক প্রতিবেশী ঘটনার পরপরই একজনকে দেয়াল টপকে পালিয়ে যেতে দেখেছেন বলে তিনি জানান।

সফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছি। পরকীয়ার সঙ্গে আতিকুরের সম্পৃক্ততা আছে বলে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি। এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আছে বলে জানতে পেরেছি। সবদিক বিবেচনা করেই আমরা তদন্ত শুরু করছি।’

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সরেজমিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিহত ব্যক্তির ভাই আশরাফুল ইসলাম ও সজীবুর রহমানকে আহাজারি করতে দেখা গেছে। তাঁরা প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাহ্‌রির সময় ছোট ভাই আতিকুরের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়। দেরি হয়ে গেছে ও সাহ্‌রির বেশি সময় নেই বলে সে ফোন রেখে দেন। ফোন রাখার দুই মিনিট পরই সঙ্গে থাকা সোহেল ফোন দিয়ে জানান, ‘আমার ভাই আর নেই।’ তাঁরা বলেন, ১৪-১৫ বছর ধরেই সোহেল আমার ভাইয়ের সঙ্গে আছে। সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সব বেরিয়ে আসবে।

লাশের ময়নাতদন্ত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক সজীব পাল। তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তির বুকের বাঁ পাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারালো কোনো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

বেলা দেড়টার দিকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা মোহাম্মদ শাহিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) সফিকুল ইসলাম, নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রশিদ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেনকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়।

এসপি আনিসুর রহমান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কী কারণে, কীভাবে এবং কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে—এসব বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন