রায়পুরা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ বলেন, নিহত ব্যক্তির কোমরের ডান পাশের ওপরের অংশে টেঁটা বা বল্লম-জাতীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গৌরিপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পাঠান বাড়ি ও মোল্লা বাড়ির মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। এর আগেও তারা বেশ কয়েকবার নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়ায়। দ্বন্দ্বের জেরে গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে নৌকা থেকে বাড়িতে ফেরার পথে আজহার মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পরে রাত দুইটার দিকে লোকমান নামের একজনের নেতৃত্বে মোল্লা বাড়ির শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাঠান বাড়ির লোকজনের বাড়িঘরে হামলা চালান। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। আজ রোববার ভোরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ আজাহারের লাশটি উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোল্লা বাড়ির লোকমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে মোল্লা বাড়ির পক্ষের লোক হিসেবে পরিচিত মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হোসেন ভূঁইয়া বলেন, দুই দিন আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল, পাঠান বাড়ির লোকেরা নিজেদের দলের একজনকে মেরে মোল্লা বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা দেবেন। তবে গতকাল রাতে কীভাবে, কী ঘটছে, তা তিনি জানেন না। রায়পুরা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেছে, তারা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুর রহমান জানান, দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন