বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সওজ ও স্থানীয় লোকজনের সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকাল থেকে জরাজীর্ণ নলকা সেতুর সংস্কারকাজ শুরু হলে যানজটের তীব্রতা বাড়তে থাকে। দিনভর থেমে থেমে যানজট থাকলেও বিকেলে তা বেড়ে যায়। বুধবার দিবাগত রাতে যানজটের তীব্রতা আরও বাড়ে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কের সয়দাবাদ থেকে হাটিকুমরুল গোলচত্বর পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার, হাটিকুমরুল গোলচত্বর থেকে ভূঁইয়াগাঁতী পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার ও হাটিকুমরুল গোলচত্বর থেকে নাটোর ও রাজশাহী রুটের নাঈমুড়ী বাজার পর্যন্ত ৬ কিলোমিটারে যানজট ছড়িয়ে পড়ে।

১৯৮৮ সালে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নে ফুলজোড় নদের ওপর নলকা সেতু নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া আঞ্চলিক সড়ক মহাসড়কে পরিণত হলেও সেতুটির কোনো পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা হয়নি।

১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু উদ্বোধনের পর থেকে এ সেতু দিয়েই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ২৩ জেলার যানবাহন চলাচল করছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে সেতুটি একেবারেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় সংস্কারকাজ শুরু করা হয়েছে। বর্তমানে সেতুর এক পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। একই সঙ্গে মহাসড়কটিতে উন্নয়নকাজ চলায় যানবাহন চলছে ধীরগতিতে।

বগুড়া থেকে ঢাকাগামী পণ্যবাহী ট্রাকের চালক ভোলানাথ বলেন, বুধবার রাত ১০টার দিকে রওনা হয়ে বৃহস্পতিবার বেলা ১টা পর্যন্ত কোনাবাড়ি এলাকায় বঙ্গবন্ধু সেতু সংযোগ মহাসড়কে আটকে থাকেন তিনি। প্রায় ১৫ ঘণ্টা ধরে এ মহাসড়কেই অবস্থান করেন তিনি। দু-এক ঘণ্টা পরপর সামনে আগানো যাচ্ছে। এরপর আবার গাড়ি বন্ধ করে বসে থাকতে হচ্ছে।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম দুপুরে বলেন, জেলার সব মহাসড়কেই যানজট রয়েছে। যানজট কত দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে, তা সঠিকভাবে বলাও সম্ভব নয়। পুলিশ যানজট নিরসনে কাজ করছে।

সিরাজগঞ্জ সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার দুপুরে প্রথম আলোকে জানান, নলকা সেতুতে সংস্কারকাজ দুপুরে শেষ হয়েছে। দুপুর ১২টা থেকে সেতুটির দুই পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে খুলে দেওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই মহাসড়কের যানজট নিরসন হবে। আশপাশের সড়ক মেরামত করতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন